যে বইটি গ্রামের আলো বদলে দিয়েছিল।

শালবনের পাশে ছোট্ট একটি গ্রাম—নাম তার চাঁদপুর। গ্রামটি খুব বড় নয়। মাটির রাস্তা, দু’পাশে ধানখেত, কয়েকটি পুকুর, পুরোনো একটি বটগাছ আর মাঝখানে টিনের ছাউনি দেওয়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়—এই নিয়েই চাঁদপুর। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করেন। কেউ মাঠে কাজ করেন, কেউ দিনমজুরি করেন, কেউ আবার দূরের শহরে গিয়ে কাজ করেন। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে কেরোসিনের…

Read More

যে ঘড়িটি কখনও থামেনি।

নদিয়ার এক পুরোনো শহরতলি—শান্তিপুরের কাছের রাধানগর। বাজারের শেষ মাথায় একটি ছোট্ট ঘড়ির দোকান ছিল। দোকানটির নাম— “সময়ের সঙ্গী”। দোকানের মালিক ছিলেন হরনাথবাবু। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। চোখে মোটা চশমা, হাতে সবসময় ছোট স্ক্রু-ড্রাইভার আর টেবিলের ওপর নানা ধরনের ঘড়ির যন্ত্রাংশ। দোকানে ঢুকলেই টিকটিক শব্দ শোনা যেত। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ি। টেবিলে রাখা ঘড়ি। কাঁচের বাক্সে সাজানো পকেট…

Read More

খেলাধুলা: শরীরচর্চার পাশাপাশি চরিত্র গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম।

মানুষের জীবনে সুস্থ থাকার জন্য যেমন খাদ্য ও বিশ্রামের প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ। আর আনন্দের সঙ্গে শরীর ও মনকে সক্রিয় রাখার অন্যতম সুন্দর মাধ্যম হলো খেলাধুলা। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, হকি, ভলিবল, সাঁতার, দৌড়, কাবাডি কিংবা অন্য যেকোনো খেলাই মানুষের শরীরকে সচল রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। খেলাধুলাকে অনেক সময়…

Read More

বৃদ্ধদের প্রতি দায়িত্ব: অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা।

ভূমিকা:- জীবন একটি দীর্ঘ পথচলা। শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে মানুষ একসময় বার্ধক্যে পৌঁছায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি কমে আসে, চলাফেরায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, অনেক কাজের জন্য অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার অর্থ কখনও মানুষের মূল্য কমে যাওয়া নয়। বরং জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, স্মৃতি, ত্যাগ এবং সংগ্রামের কারণে একজন প্রবীণ…

Read More

মহাশ্বেতা দেবী: প্রান্তিক মানুষের জীবনকে সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে আসা এক মহীয়সী।

বাংলা সাহিত্যে এমন কিছু লেখক এসেছেন, যাঁদের সাহিত্য শুধু পাঠকের বিনোদনের জন্য ছিল না। তাঁদের গল্প-উপন্যাস সমাজের এমন মানুষের কথা বলেছে, যাঁদের জীবন সাধারণত সংবাদপত্রের শিরোনাম বা ক্ষমতার কেন্দ্রের আলোচনায় খুব কমই আসে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মহাশ্বেতা দেবী। তিনি ছিলেন লেখক, গবেষক, সমাজকর্মী এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাহিত্যজুড়ে উঠে…

Read More

ঘড়ির কাঁটা যেখানে থেমে যায়।

রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট। অভীক হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে বসল। ঘরের মধ্যে অদ্ভুত একটা শব্দ হচ্ছিল। টিক… টিক… টিক… তার চোখ গেল দেওয়ালের পুরোনো ঘড়িটার দিকে। ঘড়িটি পাঁচ বছর ধরে নষ্ট। কিন্তু আজ সেটি চলছে। অভীক বিছানা থেকে উঠে ঘড়িটির সামনে গেল। কাঁটা এগিয়ে এসে ঠিক ২টা ১৭ মিনিটে থেমে গেল। তারপর ঘরের আলো…

Read More

বৃষ্টির দিনে যে প্রতিশ্রুতি।

সেদিন কলকাতার আকাশ সকাল থেকেই কালো হয়ে ছিল। দুপুরের পর হঠাৎ ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। অদিতি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল। পাঁচ বছর হয়ে গেছে, তবু বৃষ্টি নামলেই তার মনে পড়ে অয়নের কথা। অয়ন বলেছিল, “যেদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে, সেদিন আমি তোমাকে বিয়ে করতে আসব।” কথাটা বলেছিল কলেজের শেষ বছরে। তখন তাদের পৃথিবী ছিল…

Read More

যে বাড়িতে আয়না ছিল না।

শহর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল একটি দোতলা পুরোনো বাড়ি। বাড়িটির চারপাশে বড় বড় গাছ, আগাছায় ভরা উঠোন এবং ভাঙা পাঁচিল। লোকজন বাড়িটিকে বলত—“আয়নাহীন বাড়ি।” কারণ সেই বাড়িতে কোনো আয়না ছিল না। কেন ছিল না, তা কেউ জানত না। অরিন্দম বহু বছর পর গ্রামে ফিরে এসে জানতে…

Read More

নীল খামের চিঠি।

রুদ্র শহরের একটি পুরোনো ডাকঘরে কাজ করত। প্রতিদিন অসংখ্য চিঠি তার হাতে আসত। কেউ চাকরির খবর পেত, কেউ দূরের প্রিয়জনের লেখা পড়ে চোখ মুছত, আবার কোনো চিঠিতে থাকত বিচ্ছেদের কথা। কিন্তু একটি চিঠি রুদ্রকে অদ্ভুতভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। খামটি ছিল নীল রঙের। প্রাপকের নাম লেখা—“রুদ্র সেন”। ঠিকানা তার নিজের বাড়ির। চিঠিটি হাতে নিয়ে রুদ্র অবাক হয়ে…

Read More

শেষ ট্রেনের যাত্রী।।

রাত তখন ১১টা ৪৭ মিনিট। স্টেশনের নাম—চন্দ্রপুর। ছোট্ট স্টেশন। দিনে এখানে বেশ ভিড় থাকে। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটা যেন ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেদিন স্টেশনে একা দাঁড়িয়ে ছিল অয়ন। কলকাতা থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। শেষ ট্রেনটা ধরতেই হবে। না হলে রাতটা স্টেশনেই কাটাতে হবে। প্ল্যাটফর্মের ঘড়িতে…

Read More