বুকে কালো ব্যাজ, হাতে প্ল্যাকার্ড—শিক্ষক নিগ্রহের প্রতিবাদে গাজোলে মৌন মিছিল।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করেই শিক্ষক নিগ্রহের প্রতিবাদে পথে নামলেন দলমত নির্বিশেষে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। হাতে প্ল্যাকার্ড, বুকে কালো ব্যাজ—প্রথমে নীরব মিছিল, এরপর পথসভা। বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়ে একটাই দাবি তুললেন তাঁরা—শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
বুধবার শেষ বিকেলে গাজোল ব্লক গেট থেকে শুরু হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মৌন মিছিল। বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে এবং কালো ব্যাজ পরে মিছিলে অংশ নেন প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। গাজোল শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মিছিলটি এসে শেষ হয় বিদ্রোহী মোড়ে।
সেখানেই বৃষ্টির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী পথসভা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষক পলাশ সরকার জানান, গত ১৪ তারিখ একটি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তার পরদিন, অর্থাৎ ১৫ তারিখ ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর বহিরাগত কয়েকজন দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
পলাশবাবুর কথায়, “ঘটনার প্রতিবাদেই প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুক।”
অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোজী আফরোজ বলেন, “শিক্ষকেরা সাধারণত পাল্টা মারপিটে জড়ান না। সেই কারণেই দুষ্কৃতীদের কাছে শিক্ষকেরা সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠছেন। ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ না থাকা সত্ত্বেও ওই বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রতিবাদে প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও উপেক্ষা করে আমরা পথে নেমেছি। শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটাই সুর—শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

