দু’বছর ধরে শয্যাশায়ী যদু, বেঙ্গালুরুতে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ—অর্থের অভাবে অসহায় পরিবার।

ক্রান্তি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বৃদ্ধ শরীর আর সইতে চায় না। চোখের জলও যেন থামতে চায় না। তবুও ছেলের জীবন বাঁচানোর আশায় মানুষের কাছে হাতজোড় করে সাহায্য চাইছেন এক অসহায় মা। মায়ের কণ্ঠে একটাই আকুতি—“আমার ছেলেটাকে বাঁচিয়ে দিন।”

ক্রান্তি ব্লকের লাটাগুড়ি শিবডাঙ্গা আনন্দপাড়া এলাকার বাসিন্দা যদু ঘোষ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর ধরে কিডনি ও চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছেন তিনি। একসময় পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন যদু। স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছিল তাঁদের ছোট্ট সংসার। কিন্তু দীর্ঘদিনের অসুস্থতা সেই সংসারের সমস্ত হিসেব বদলে দিয়েছে।

দু’বছর ধরে কার্যত বিছানায় পড়ে রয়েছেন যদু। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিজনেরা। বর্তমানে আর্থিক সঙ্কটের কারণে তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য যদুকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার বিপুল খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে কার্যত দিশেহারা পরিবার।

সংসারের প্রধান উপার্জনকারী মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারের সমস্ত দায় এসে পড়েছে স্ত্রী শর্মিলা ঘোষের উপর। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। একদিকে স্বামীর চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে সন্তানের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন সংসার—সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের।

অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত নিজের দাদার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে পরিবারটিকে বলেও জানা গিয়েছে। নিজের ঘর ও সংসার হারিয়ে আজ চিকিৎসার জন্য মানুষের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা পরিবার।

এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘শেষ যাত্রার সাথী’-র বিনয় রায়। খবর পেয়ে তিনি যদু ঘোষের বাড়িতে পৌঁছে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য করেন। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসার জন্য পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন মানুষের সহযোগিতাই এই পরিবারের কাছে বড় ভরসা।

তবে এই সমস্ত কষ্টের মধ্যেও সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য যদুর বৃদ্ধা মায়ের চোখের জল। শরীর দুর্বল, বয়সের ভারে ন্যুব্জ—তবুও ছেলের মাথার পাশে বসে রয়েছেন তিনি। কখনও চোখের জল মুছছেন, কখনও আবার মানুষের কাছে হাতজোড় করে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছেন।

নিজের জন্য তাঁর কোনও দাবি নেই। তাঁর একটাই চাওয়া—ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া।

পরিবারের দাবি, যদুর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। আর্থিকভাবে দুর্বল এই পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। তাই সমাজের সহৃদয় মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে পরিবার।

একজন স্ত্রী চান তাঁর স্বামী সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরুন। একটি সন্তান চায় তার বাবাকে আবার পাশে পেতে। আর এক বৃদ্ধা মা শুধু চান, তাঁর ছেলের মুখে আবার হাসি ফুটুক।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে পরিবারের আবেদন—যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী যদু ঘোষের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ছোট ছোট সহযোগিতা মিলেই হয়তো চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হবে।

মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস নিয়েই এখন সাহায্যের অপেক্ষায় যদু ঘোষের পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *