নারীশক্তির বন্দনায় অনন্য অগ্রদূত ক্লাবের দুর্গাপুজো, বেলুড় সাপুঁইপাড়ায় নজর কাড়ল অভিনব ভাবনা।

বেলুড়, হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শারদোৎসব মানেই আনন্দ, উচ্ছ্বাস, সম্প্রীতি আর মিলনের উৎসব। আর সেই উৎসবের আঙিনায় যখন নারীর সম্মান ও নারীশক্তির জয়গান উঠে আসে, তখন সেই পুজো হয়ে ওঠে আরও বিশেষ, আরও অর্থবহ। ঠিক এমনই এক অভিনব ভাবনাকে সামনে রেখে এবারের দুর্গোৎসবে দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিল হাওড়া জেলার বেলুড় সাপুঁইপাড়া পাড়ার অগ্রদূত ক্লাব।
অগ্রদূত ক্লাবের এবারের পুজোর মূল ভাবনা ছিল ‘নারীশক্তি’। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অবদান, তাঁদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, সাহস ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে এক বিশেষ বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন পুজো উদ্যোক্তারা।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতবর্ষ, এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও যেসব নারী নিজেদের কর্মদক্ষতা, প্রতিভা ও অবদানের মাধ্যমে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোই ছিল এই ভাবনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, এই পুজোর মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা উপলব্ধি করেছেন নারীর প্রকৃত শক্তি, সম্মান ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব। পুজো মণ্ডপের ভাবনা এবং তার উপস্থাপনা বহু মানুষের নজর কেড়েছে। হাওড়া জেলা-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন অগ্রদূত ক্লাবের এই অভিনব পুজো দেখতে।
অনেক দর্শনার্থীর মুখেই শোনা গিয়েছে, “সত্যিই, এবার আমরা একটু অন্যরকম পুজো দেখলাম। নারীদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে নারীশক্তিকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই উদ্যোগই অগ্রদূত ক্লাবের এবারের পুজোকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।

পুজোয় সম্প্রীতি, বিসর্জনে শৃঙ্খলা
অগ্রদূত ক্লাবের পুজোর আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এলাকার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। ছোট শিশু থেকে প্রবীণ, মহিলা থেকে যুবক—পাড়ার সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে এই দুর্গোৎসবকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন।
পুজোর দিনগুলিতে যেমন ছিল আনন্দ ও উৎসবের আবহ, তেমনই বিজয়ার দিনেও দেখা গেল মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক সুন্দর ছবি।
পুজো পরিচালন কমিটি কথা দিয়েছিল, দশমীর দিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাকে নিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই উদ্যোক্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।
মাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছোট থেকে বড়, যুবক থেকে মহিলা—সকলেই একত্রিত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিজয়ার শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
সবার চোখেমুখে তখন একটাই আবেগ, একটাই প্রার্থনা—মা আবার ফিরে আসবেন আগামী বছর। বিদায়ের সুরে যেন প্রত্যেকের হৃদয় থেকে উঠে এল সেই চেনা আকুতি—
“মা, আজ তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু তুমি আবার এসো। আরও একটি বছর আমরা তোমার অপেক্ষায় থাকব। তুমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে এসো আমাদের মাঝে।”

নারীশক্তির বার্তা থাকুক সারা বছর
অগ্রদূত ক্লাবের এবারের দুর্গাপুজো শুধু কয়েক দিনের উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নারীকে সম্মান করা, তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে বার্তা এই পুজোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, তা যেন সারা বছর মানুষের মনে জাগ্রত থাকে।
উৎসব শেষ হয়েছে, মা দুর্গা ফিরে গিয়েছেন কৈলাসে। কিন্তু অগ্রদূত ক্লাবের ‘নারীশক্তি’র ভাবনা মানুষের মনে যে ছাপ রেখে গেল, তা আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নারীর সম্মান, সমাজের গর্ব—এই বার্তাকে সামনে রেখেই বেলুড় সাপুইপাড়ার অগ্রদূত ক্লাবের এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *