জলপাইগুড়িতে হিজড়াদের আস্তানায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি, অস্ত্র-বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের দাবি।

জলপাইগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোরের আলো ফোটার আগেই জলপাইগুড়ি শহরের উত্তর রায়কতপাড়া এলাকায় একটি বৃহন্নলা আবাসনে হানা দেয় বিএসএফ, ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI) এবং জলপাইগুড়ি পুলিশের যৌথ দল। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, বাংলাদেশি সিম কার্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা জন্মনিবন্ধনের নথি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় পিপাসা হালদার ওরফে পিপাসা হিজরা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির বড় পুকুর সংলগ্ন উত্তর রায়কতপাড়া এলাকায় ওই বড় আবাসনটি রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বিএসএফের একটি দল এলাকাটি ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় আট থেকে দশ ঘণ্টা ধরে চলে অভিযান।

পুলিশ ও তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে দুটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ, দুটি ম্যাগাজিন, দুটি বাংলাদেশি সিম কার্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা একটি জন্মনিবন্ধন শংসাপত্র উদ্ধার হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযানের পর পিপাসা হালদারকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, নথি ও সিম কার্ডের উৎস এবং এগুলির সঙ্গে কোনও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে আবাসনে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের নথিপত্র ও পরিচয়ও যাচাই করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, পিপাসা হিজরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র বা অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।

প্রায় এক দশক আগে ভাড়াবাড়িতে বসবাস শুরু করে পরবর্তীতে ওই এলাকায় বড় আবাসন গড়ে ওঠা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সম্পত্তির উৎস বা অন্য কোনও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও নথির প্রকৃত উৎস এবং কোনও আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগ রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *