কেশপুরে যেতে পারছেন না বিধায়ক! ফোনে হুমকি, নিরাপত্তার দাবি শিউলি সাহার।
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- “এলাকায় গেলে ডিম ছোড়া হবে, আসবেন না”— ফোনে এমন হুমকি নিয়মিত পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করলেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। মঙ্গলবার মেদিনীপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত ভি.বি.জি. রাম জি’ পঞ্চ সম্মেলন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জেলা পরিষদ হল থেকে বেরিয়ে শিউলি সাহা বলেন, “নিশ্চিতভাবেই আমারও কষ্ট যে আমি কেশপুরে যেতে পারছি না। বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির কথাই মন্ত্রীর কাছে বলতে এসেছিলাম। আমাদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকলেই হবে না বা মঞ্চে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানালেই হবে না। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কিছু উৎসাহী মানুষ রাতারাতি ঝান্ডা ধরে নিয়েছেন। এগুলো পুলিশকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে কেশপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে শিউলি সাহা প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জয়ী হন। পরে তিনি দলবদল করে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কেশপুরের একাংশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে সমালোচনা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে। শিউলি সাহার দাবি, ভোটে জয়ের পর থেকে তিনি এখনও কেশপুরে যেতে পারেননি। তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ও আর আগের জায়গায় নেই। তিনি বলেন, “যে বাড়িতে আমার বিধায়ক কার্যালয় ছিল, বাড়ির মালিক জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। পরে সব আসবাবপত্র কলকাতায় নিয়ে যেতে হয়েছে। এখন কেশপুরে নতুন করে ঘর খুঁজছি, কিন্তু কেউ ভাড়া দিতে চাইছেন না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এলাকায় গেলেই ডিম ছোড়া হবে বলে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।” নিরাপত্তার দাবিতে তিনি জানান, “আমি মন্ত্রী, এসপি, ডিএম, স্থানীয় পুলিশ ও বিডিও-র কাছে আবেদন জানাব, যাতে জনপ্রতিনিধিরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন। কেউ এলাকায় গিয়ে ঢিল খাবে, মাথা ফাটবে, গাড়ি ভাঙচুর হবে— এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না। অতীত ভুলে নতুন বাংলা গড়ার যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেই লক্ষ্যেই আমরাও কাজ করতে চাই। কিন্তু এখনও সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেই আমার মনে হয়।”
বিধায়কের এই অভিযোগকে ঘিরে কেশপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

