রেসিপি : পালং পনির।।
পরিচিতি:- পালং পনির উত্তর ভারতীয় রান্নার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর নিরামিষ পদ। তাজা পালং শাকের মসৃণ পেস্টের সঙ্গে নরম পনিরের টুকরো মিশে তৈরি হয় এই সুস্বাদু কারি। স্বাদে হালকা, পুষ্টিতে ভরপুর এবং দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় এটি ঘরোয়া রান্না থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই সমান জনপ্রিয়। রুটি, নান, পরোটা বা জিরা রাইসের সঙ্গে পালং পনির অসাধারণ মানিয়ে যায়।
উপকরণ (৪ জনের জন্য)—–
পালং শাক – ৫০০ গ্রাম
পনির – ২৫০ গ্রাম (চৌকো টুকরো)
পেঁয়াজ – ১টি মাঝারি (কুচি)
টমেটো – ১টি বড় (কুচি)
আদা – ১ ইঞ্চি
রসুন – ৫–৬ কোয়া
কাঁচা লঙ্কা – ২টি
জিরে – ½ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – এক চিমটি
গরম মশলা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
ফ্রেশ ক্রিম – ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
তেল বা ঘি – ২ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
প্রণালী—–
১. পালং শাক ভালোভাবে ধুয়ে ফুটন্ত জলে ২ মিনিট ব্লাঞ্চ করুন। সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জলে তুলে নিন, এতে সবুজ রং সুন্দর থাকবে।
২. ব্লাঞ্চ করা পালং শাক, আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা একসঙ্গে মিহি পেস্ট করে নিন।
৩. পনিরের টুকরোগুলো চাইলে হালকা ভেজে নিতে পারেন, তবে না ভেজেও ব্যবহার করা যায়।
৪. কড়াইয়ে তেল বা ঘি গরম করে জিরে ফোড়ন দিন।
৫. পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
৬. এবার টমেটো কুচি ও সামান্য লবণ দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত কষান।
৭. পালং শাকের পেস্ট ঢেলে দিন। হলুদ ও সামান্য জল মিশিয়ে ৫–৬ মিনিট রান্না করুন।
৮. গ্রেভি ফুটে উঠলে পনিরের টুকরো যোগ করুন এবং আলতো করে মিশিয়ে দিন।
৯. ঢেকে ৩–৪ মিনিট রান্না করুন।
১০. শেষে গরম মশলা গুঁড়ো ও ফ্রেশ ক্রিম মিশিয়ে আরও ১ মিনিট রান্না করে নামিয়ে নিন।
পরিবেশন——
গরম নান, রুটি, তন্দুরি রুটি, পরোটা বা জিরা রাইসের সঙ্গে পালং পনির পরিবেশন করুন। উপর থেকে সামান্য ক্রিম ছড়িয়ে দিলে দেখতে আরও সুন্দর লাগে।
কিছু টিপস—–
পালং ব্লাঞ্চ করার পর ঠান্ডা জলে দিলে রং উজ্জ্বল সবুজ থাকে।
পনির বেশি ভেজে ফেলবেন না, তাহলে শক্ত হয়ে যাবে।
কাঁচা লঙ্কা ও রসুনের পরিমাণ নিজের স্বাদমতো বাড়ানো বা কমানো যায়।
পুষ্টিগুণ—–
পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও কে। পনির প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। ফলে পালং পনির একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুষম নিরামিষ খাবার।
রন্ধন-ঐতিহ্য—-
পালং পনির উত্তর ভারতের এক জনপ্রিয় ক্লাসিক পদ হলেও এখন এটি গোটা ভারতেই বহুল সমাদৃত। স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু এবং দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় এটি শিশু থেকে বড়—সবার কাছেই প্রিয়। বাঙালি রান্নাঘরেও আজ এই পদ নিজের জায়গা করে নিয়েছে।

