বাংলার চেনা পুজোর আদলে বালুরঘাটে বিংশ শতাব্দী ক্লাবের মণ্ডপ, থাকছে সাত দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর ভাষা। মণ্ডপে এসেছে নতুন ভাবনা। আলোয় বেড়েছে ঝলক। সেই বদলের মধ্যেও কোথাও রয়ে গিয়েছে পুরনো বাংলার পুজোর চেনা টান। প্রতিমার সাবেকি গড়ন আর মণ্ডপের পরিচিত সাজে ফিরে দেখার সেই ইচ্ছে পূরণের চেষ্টা করেছে বালুরঘাটের বিংশ শতাব্দী ক্লাব।
ক্লাবের ৬৭তম বর্ষের দুর্গোৎসবের ভাবনা সাবেকিয়ানার সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন। পুরনো বাংলার পুজোর আদলকে ধরে রেখে আলো ও শব্দের আধুনিকতা যোগ করার পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। অতীতের অনুকরণ নয় বরং ঐতিহ্যের ভিতের উপর দাঁড়িয়ে বর্তমানকে ছুঁয়ে দেখাই এ বারের আয়োজনের মূল কথা।
প্রতিমা গড়েছেন হিলির মৃৎশিল্পী মধুসূদন দাস। মণ্ডপসজ্জায় ভাই ডেকোরেটার্সের রাজ নারায়ণ সাহা চৌধুরী। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। মণ্ডপের সাজ থেকে প্রতিমা নির্মাণ সবেতেই স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের অংশগ্রহণ এই পুজোর অন্যতম দিক।
তবে ৬৭তম বর্ষের উৎসব শুধু মণ্ডপের সাবেকি রূপে সীমাবদ্ধ নয়। মহাচতুর্থীর দিন সন্ধ্যায় জেলার বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন হবে। ওই দিন থেকেই শুরু হবে টানা সাত দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বাইরের শিল্পীরাও অংশ নেবেন। উৎসবের মঞ্চে থাকবে নানা ধরনের পরিবেশনা। পাশাপাশি ক্লাবের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বস্ত্র বিতরণ সহ একাধিক সমাজসেবামূলক কর্মসূচি।
অর্থাৎ এক দিকে বাংলার চেনা পুজোর আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অন্য দিকে সংস্কৃতি ও সমাজসেবাকে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ। মণ্ডপে সাবেকিয়ানা আর আয়োজনে আধুনিকতার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে ক্লাব।
পুজো কমিটির সম্পাদক তথা ক্লাবের সহ-সভাপতি গৌতম সাহার কথায় সাবেকি পুজোর রূপ বজায় রেখেই এ বারের আয়োজন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া এবং সমাজসেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে উৎসবকে আরও অর্থবহ করে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
পুজোর শেষ প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যে তাই বিংশ শতাব্দী ক্লাবের এ বারের ভাবনায় শুধু মণ্ডপের রূপ বদলের গল্প নেই। আছে পুরনোকে মনে রেখে নতুনকে আপন করে নেওয়ার প্রচেষ্টাও। ক্লাবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ভাবনাকেই উৎসবের পরিসরে ছড়িয়ে দিতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *