হিলি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠে ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান, জৈন ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের স্মরণে বিশেষ উদ্যোগ।
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দক্ষিণ দিনাজপুরের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ভারতের প্রাচীন অধ্যাত্মসাধনার যোগসূত্রকে তুলে ধরতে সোমবার হিলি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জৈনাচার্য পঞ্চম শ্রুতকেবলী ভদ্রবাহু এবং বৌদ্ধাচার্য অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের প্রতিমূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) প্রণব ঘোষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) আশিস ভট্টাচার্য। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) অর্ণব সেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতন উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) দীপক কুমার রায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রী শংকর চক্রবর্তী এবং বালুরঘাট বি.এড. কলেজের (অটোনোমাস) প্রেসিডেন্ট ও ইতিহাস অনুসন্ধান পরিষদের সম্পাদক ড. নব কুমার দাস। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বালন ও উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরেণ্য ঐতিহাসিক অধ্যাপক হিমাংশু কুমার সরকার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একতা দে এবং সূরজ দাশ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অধ্যাপক হিমাংশু কুমার সরকার রচিত দুটি গবেষণাগ্রন্থ—‘প্রাচীন উত্তরবঙ্গে জৈনধর্ম’ এবং ‘ভারতের আলোকবর্তিকা অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবর্গের উপস্থিতিতে গ্রন্থ দুটি প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি অতিথিদের হাতে পরম পূজ্য মুনি ১০৮ অক্ষয়সাগরজী মহারাজ রচিত জৈনধর্মবিষয়ক ‘জিন সংস্কার’ গ্রন্থ এবং জৈন সংঘ, পুনে-র পক্ষ থেকে পাঠানো ফটো ফ্রেম তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অতিথিরা দুই মহাসাধকের জীবন, সাধনা এবং ভারতীয় ধর্ম-দর্শনের ইতিহাসে তাঁদের অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। এই আয়োজন কেবল দুটি প্রতিমূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠান নয়, বরং দক্ষিণ দিনাজপুরের ইতিহাস, ধর্ম-দর্শন ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। প্রতিমূর্তি স্থাপন ও গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে জেলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচেতনা প্রসারের বার্তা উঠে আসে। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক হিমাংশু কুমার সরকার, ম্যানেজিং ট্রাস্টি, হিমাংশু কুমার সরকার অ্যান্ড অঞ্জলি সরকার ফাউন্ডেশন অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ।

