শান্তিপুরের মানিকনগরে করম পুজো, প্রতিষ্ঠিত হলো বীরসা মুন্ডার পূর্ণাঙ্গ মূর্তি।

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ভাগীরথী নদী পার হয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমানা সংলগ্ন অথচ নদীয়া জেলার শান্তিপুরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত মানিকনগরে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী করম পুজো। এই পুজো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এলাকায় বীর আদিবাসী জননায়ক ভগবান বীরসা মুন্ডার এক পূর্ণাঙ্গ মূর্তি উন্মোচন ও প্রতিষ্ঠা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তিপুরের বিডিও (BDO), বিএমওএইচ (BMOH), শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ভগবান বীরসা মুন্ডা এবং আদিবাসী বিদ্রোহের বীর যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসক, অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনরা যখন আদিবাসীদের ‘জল, জমি ও জঙ্গল’-এর অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল, তখন আদিবাসী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন ভগবান বীরসা মুন্ডা। তিনি মুন্ডা বিদ্রোহ ও সাঁওতাল বিদ্রোহের উল্লেখ করে সিধু ও কানহুর অবদান স্মরণ করেন এবং বলেন যে, তাঁদের এই বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে মনে রেখেই বর্তমান আদিবাসী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পরবর্তীকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও তিনি এই সুন্দর ও মনোগ্রাহী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সকলকে করম উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিক (বিডিও) তাঁর বক্তব্যে করম পুজোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, করম ঠাকুর হলেন তারুণ্য ও যুবশক্তির প্রতীক। তিনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ঐতিহ্য, ভূমি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, আদিবাসী সমাজ যদি নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়, তবে তারা তাদের মূল শিকড় হারিয়ে ফেলবে। তাই আগামী প্রজন্মকে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে এবং প্রশাসন সর্বদা আদিবাসী সমাজের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্য এক বক্তা বলেন, আদিবাসীরা আদিকাল থেকেই ভারতের ভূমিপুত্র এবং প্রকৃতি পূজাই তাঁদের জীবনের মূল দর্শন। শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমানে আদিবাসী সমাজ অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। তিনি জানান, করম পুজো উপলক্ষে সারাদিন ও সারারাত ধরে চিরাচরিত রীতি মেনে পূজা-অর্চনা ও সাংস্কৃতিক উৎসব চলবে এবং পরদিন বিকেলে এই মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। মানিকনগরের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *