ডিমের বাও বান — নরম স্টিমড বানের ভিতরে মশলাদার ডিমের পুর।

ভূমিকা

বাও বান পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় একটি স্টিমড খাবার। নরম, তুলতুলে বানের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের পুর ভরে এটি তৈরি করা হয়। সেই ধারণাকে ভারতীয় স্বাদের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা যায় ডিমের বাও বান

এই রেসিপিতে নরম স্টিমড বানের ভিতরে থাকবে ডিম, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, কাঁচালঙ্কা ও মশলার সুস্বাদু পুর। তেলে ভাজার পরিবর্তে বাষ্পে রান্না হওয়ায় বানের বাইরের অংশ থাকবে নরম ও তুলতুলে।

উপকরণ

বানের জন্য

  • ময়দা – ২ কাপ
  • ইনস্ট্যান্ট ইস্ট – ১ চা-চামচ
  • চিনি – ১ টেবিল চামচ
  • নুন – ½ চা-চামচ
  • বেকিং পাউডার – ½ চা-চামচ
  • সাদা তেল – ১ টেবিল চামচ
  • হালকা গরম জল – প্রয়োজনমতো

ডিমের পুরের জন্য

  • ডিম – ৫টি
  • পেঁয়াজ – ১টি, কুচি
  • ক্যাপসিকাম – ½টি, কুচি
  • গাজর – ½টি, কুচি
  • কাঁচালঙ্কা – ২টি, কুচি
  • আদা – ১ চা-চামচ, কুচি
  • ধনেপাতা – ২ টেবিল চামচ
  • গোলমরিচ গুঁড়ো – ½ চা-চামচ
  • জিরাগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
  • লঙ্কাগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
  • সয়া সস – ১ চা-চামচ
  • নুন – স্বাদমতো
  • তেল – ১ টেবিল চামচ

বানের ময়দা মাখা

একটি বড় পাত্রে ময়দা নিন।

এর মধ্যে ইস্ট, চিনি, নুন ও বেকিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

এবার সাদা তেল দিন।

অল্প অল্প করে হালকা গরম জল দিয়ে নরম ময়দা মাখুন।

ময়দা খুব শক্ত করবেন না। নরম ময়দা দিয়ে বাও বান তৈরি করলে বান তুলতুলে হয়।

প্রায় ৮–১০ মিনিট ভালোভাবে ময়দা মথে নিন।

এরপর পাত্রটি ঢেকে উষ্ণ জায়গায় প্রায় ১ ঘণ্টা রেখে দিন।

ময়দা ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হলে বুঝতে হবে ইস্ট কাজ করেছে।

ডিমের পুর তৈরি

একটি বাটিতে ডিমগুলো ভেঙে সামান্য নুন ও গোলমরিচ দিয়ে ফেটিয়ে নিন।

প্যানে তেল গরম করে ডিম ঢেলে ঝরঝরে করে রান্না করুন।

ডিম বেশি শুকিয়ে ফেলবেন না।

অন্য একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে আদা, কাঁচালঙ্কা ও পেঁয়াজ ভাজুন।

পেঁয়াজ নরম হলে গাজর ও ক্যাপসিকাম যোগ করুন।

উচ্চ আঁচে ২–৩ মিনিট নাড়াচাড়া করুন।

এরপর জিরাগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো ও সামান্য গোলমরিচ দিন।

সয়া সস দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

সবশেষে রান্না করা ডিম যোগ করে সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন।

ধনেপাতা ছড়িয়ে আঁচ বন্ধ করুন।

পুরটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নিন।

বাও বান তৈরি

ময়দা ফুলে গেলে আবার হালকা করে মথে নিন।

এরপর ময়দা ৮টি সমান ভাগে ভাগ করুন।

প্রতিটি অংশ গোল করে নিন।

একটি অংশ বেলন দিয়ে ছোট গোল আকারে বেলে নিন।

মাঝখানে ১–২ টেবিল চামচ ডিমের পুর রাখুন।

চারদিক থেকে ময়দা টেনে এনে পুরটি বন্ধ করে দিন।

হাত দিয়ে হালকা গোল করে নিন।

এভাবে সবগুলো বাও তৈরি করুন।

স্টিম করার আগে বিশ্রাম

সব বাও তৈরি হয়ে গেলে এগুলোকে ঢেকে আরও ১৫–২০ মিনিট রেখে দিন।

এই দ্বিতীয় বিশ্রামটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে বান আরও নরম ও হালকা হয়।

স্টিমারের ট্রেতে সরাসরি বান রাখবেন না। নিচে ছোট বাটার পেপার বা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করতে পারেন, যাতে বান লেগে না যায়।

স্টিম করার পদ্ধতি

স্টিমারে পর্যাপ্ত জল গরম করুন।

জল ফুটতে শুরু করলে বাওগুলো ট্রেতে সাজিয়ে দিন।

প্রতিটি বানের মধ্যে কিছুটা জায়গা রাখুন, কারণ স্টিম হওয়ার সময় এগুলো ফুলে উঠবে।

ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে প্রায় ১২–১৫ মিনিট স্টিম করুন।

রান্না হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা খুলবেন না।

আঁচ বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢাকনা বন্ধ অবস্থায় রাখুন।

এরপর ধীরে ধীরে ঢাকনা খুলুন।

এতে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে বাও বসে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

আরও নরম বাও বানানোর টিপস

ময়দা মাখার সময় জল একসঙ্গে বেশি দেবেন না।

অল্প অল্প করে জল দিয়ে ময়দার নরমভাব নিয়ন্ত্রণ করুন।

ময়দা যত ভালোভাবে মথবেন, বানের গঠন তত মসৃণ হবে।

স্টিমারের ঢাকনা থেকে জল যেন সরাসরি বানের ওপর না পড়ে। চাইলে ঢাকনার নিচে একটি পরিষ্কার কাপড় বেঁধে দিতে পারেন।

ঝাল ডিমের বাও

ঝাল স্বাদের জন্য ডিমের পুরে কাঁচালঙ্কা বাড়িয়ে দিন।

এর সঙ্গে চিলি ফ্লেক্স ও সামান্য ঝাল সস ব্যবহার করা যায়।

পরিবেশনের সময় আলাদা করে চিলি সস দিলে প্রত্যেকে নিজের পছন্দমতো ঝাল করতে পারবেন।

চিজি ডিমের বাও

ডিমের পুর ঠান্ডা হওয়ার পর সামান্য গ্রেট করা চিজ মিশিয়ে দিতে পারেন।

পুরের ভিতরে চিজ থাকলে স্টিম করার পর তা নরম হয়ে ডিমের সঙ্গে মিশে যাবে।

তবে খুব বেশি চিজ ব্যবহার করবেন না, কারণ অতিরিক্ত চিজ পুরকে ভারী করে দিতে পারে।

সবজি বাড়িয়ে তৈরি

ডিমের সঙ্গে আরও সবজি ব্যবহার করতে পারেন।

যেমন—

  • বিনস
  • মাশরুম
  • মটরশুঁটি
  • ভুট্টা
  • বাঁধাকপি
  • স্প্রিং অনিয়ন

সবজি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ভেজে অতিরিক্ত জল শুকিয়ে নিন।

পরিবেশনের পদ্ধতি

ডিমের বাও বান গরম অবস্থায় পরিবেশন করলে সবচেয়ে ভালো লাগে।

সঙ্গে রাখতে পারেন—

  • চিলি সস
  • টমেটো সস
  • গার্লিক সস
  • মশলাদার দই
  • ধনেপাতা-পুদিনার চাটনি

বাও মাঝখান থেকে কেটে ভিতরের ডিমের পুর দৃশ্যমান করেও পরিবেশন করা যায়।

সংরক্ষণ

বাও বান গরম অবস্থায় খেলে সবচেয়ে ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।

কিছুক্ষণ পরে খেতে হলে পরিষ্কার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখুন।

ফ্রিজে রাখতে হলে ঠান্ডা হওয়ার পর ঢেকে রাখুন এবং খাওয়ার আগে আবার অল্প সময় স্টিম করে নিলে নরমভাব কিছুটা ফিরে আসে।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১. ইস্ট সক্রিয় হওয়ার জন্য জল খুব গরম করবেন না।

২. ময়দা খুব শক্ত করে মাখবেন না।

৩. ডিমের পুর সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে বানের মধ্যে দিন।

৪. পুর বেশি ভরবেন না।

৫. বাওয়ের প্রান্ত ভালোভাবে বন্ধ করুন।

৬. স্টিমারে বাওগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন।

৭. স্টিম করার সময় বারবার ঢাকনা খুলবেন না।

৮. রান্না শেষে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা খুলে ফেলবেন না।

রান্নার সময়

প্রস্তুতির সময়: ৩০ মিনিট
ময়দা ফুলতে: প্রায় ১ ঘণ্টা
স্টিম করার সময়: ১২–১৫ মিনিট
মোট সময়: প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট

পরিমাণ: ৮টি বাও বান

পুষ্টির দিক

ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস। এর সঙ্গে গাজর, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ ও অন্যান্য সবজি যোগ করলে খাবারে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়।

স্টিম করা হওয়ায় বানের অংশ তৈরিতে অতিরিক্ত তেল লাগে না। তবে ময়দা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারও বটে। তাই পরিমাণ বুঝে খাওয়া ভালো।

উপসংহার

প্রচলিত ডিমের রান্নার বাইরে একটু নতুন কিছু তৈরি করতে চাইলে ডিমের বাও বান অবশ্যই চেষ্টা করা যায়। নরম, তুলতুলে স্টিমড বানের মধ্যে মশলাদার ডিম ও সবজির পুর এই খাবারকে করে তোলে আকর্ষণীয়।

বাড়িতে অতিথি এলে কিংবা ছুটির দিনে পরিবারের জন্য একটু ভিন্নধর্মী জলখাবার তৈরি করতে চাইলে এই রেসিপি একটি সুন্দর বিকল্প হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *