ডিমের প্যাটিস — মুচমুচে আবরণে মশলাদার ডিমের পুর।
ভূমিকা
বেকারি থেকে কেনা প্যাটিস অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু বাড়িতেই যদি ডিম দিয়ে তৈরি করা যায় মুচমুচে ও সুস্বাদু প্যাটিস, তাহলে জলখাবারের স্বাদ আরও বাড়ে। ডিমের প্যাটিস এমনই একটি সহজ ও আকর্ষণীয় রেসিপি।
পাতলা পাফ পেস্ট্রির আবরণের মধ্যে মশলা মাখানো ডিমের পুর ভরে বেক করা হয় এই পদ। বাইরে থাকে খাস্তা ও স্তরযুক্ত আবরণ, আর ভিতরে থাকে নরম, মশলাদার ডিমের পুর।
উপকরণ
প্যাটিসের জন্য
- পাফ পেস্ট্রি শিট – ৬টি
- ডিম – ৪টি
- পেঁয়াজ – ১টি মাঝারি, কুচি
- কাঁচালঙ্কা – ১–২টি, কুচি
- ধনেপাতা – ২ টেবিল চামচ, কুচি
- তেল – ১ টেবিল চামচ
- নুন – স্বাদমতো
- হলুদ – ¼ চা-চামচ
- লঙ্কাগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
- গোলমরিচ গুঁড়ো – ¼ চা-চামচ
- জিরাগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
- গরম মশলা – ¼ চা-চামচ
- চাট মশলা – ½ চা-চামচ
উপরে দেওয়ার জন্য
- ডিমের কুসুম বা ফেটানো ডিম – ১টি
- তিল – ১ চা-চামচ, ইচ্ছেমতো
- কালোজিরে – সামান্য, ইচ্ছেমতো
ডিম সেদ্ধ করা
প্রথমে ডিমগুলো একটি পাত্রে নিয়ে পর্যাপ্ত জল দিন।
মাঝারি আঁচে ডিম সেদ্ধ করুন। ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে ঠান্ডা জলে রাখুন।
খোসা ছাড়িয়ে ডিমগুলো ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
চাইলে কুসুম আলাদা করে চটকে নিতে পারেন এবং সাদা অংশ ছোট টুকরো করে ব্যবহার করতে পারেন। এতে প্যাটিসের পুরের গঠন আরও সুন্দর হয়।
ডিমের মশলাদার পুর তৈরি
একটি প্যানে তেল গরম করুন।
কুচি করা পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভাজুন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি হয়ে এলে হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, জিরাগুঁড়ো ও সামান্য নুন দিয়ে দিন।
মশলাগুলো অল্প আঁচে নাড়াচাড়া করুন।
এবার কুচি করা সেদ্ধ ডিম দিয়ে দিন।
সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে ২–৩ মিনিট রান্না করুন।
এরপর গোলমরিচ গুঁড়ো, গরম মশলা ও চাট মশলা দিয়ে মিশিয়ে নিন।
সবশেষে ধনেপাতা দিয়ে আঁচ বন্ধ করুন।
পুরটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নিন। গরম পুর পাফ পেস্ট্রির মধ্যে দিলে পেস্ট্রি নরম হয়ে যেতে পারে।
পাফ পেস্ট্রি প্রস্তুত করা
ফ্রোজেন পাফ পেস্ট্রি ব্যবহার করলে আগে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনুন।
তবে পেস্ট্রি একেবারে গলে নরম হয়ে যাওয়া উচিত নয়। হালকা ঠান্ডা ও নমনীয় অবস্থায় থাকলে সেটি নিয়ে কাজ করা সহজ হয়।
প্রতিটি পেস্ট্রি শিট প্রয়োজন অনুযায়ী চৌকো বা আয়তাকার করে কেটে নিন।
প্যাটিস বানানোর পদ্ধতি
একটি পেস্ট্রি শিটের মাঝখানে ১–২ টেবিল চামচ ডিমের পুর রাখুন।
পেস্ট্রির এক পাশ তুলে অন্য পাশের ওপর ভাঁজ করে দিন।
প্রান্তগুলো আঙুল দিয়ে হালকা চেপে বন্ধ করুন।
চাইলে কাঁটাচামচ দিয়ে প্রান্তে হালকা দাগ তৈরি করতে পারেন। এতে প্যাটিস দেখতে সুন্দর হবে এবং প্রান্ত ভালোভাবে আটকেও থাকবে।
এভাবে সবগুলো প্যাটিস তৈরি করে নিন।
উপরে ডিমের প্রলেপ
একটি ছোট বাটিতে একটি ডিম ফেটিয়ে নিন।
ব্রাশ দিয়ে প্যাটিসের উপরের অংশে পাতলা করে ফেটানো ডিম লাগিয়ে দিন।
এর ওপর সামান্য তিল বা কালোজিরে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
এতে বেক করার পর প্যাটিসের ওপর সুন্দর সোনালি রং আসবে।
ওভেনে বেক করার পদ্ধতি
ওভেন আগে থেকেই প্রায় ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রিহিট করে নিন।
বেকিং ট্রেতে বাটার পেপার বিছিয়ে প্যাটিসগুলো একটু দূরে দূরে সাজিয়ে রাখুন।
প্রায় ১৮–২৫ মিনিট বেক করুন।
প্যাটিস ফুলে উঠলে এবং উপরের স্তর সোনালি ও মুচমুচে হয়ে এলে বুঝতে হবে এটি প্রস্তুত।
ওভেন থেকে বের করে ৫ মিনিট রেখে তারপর পরিবেশন করুন।
এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি
এয়ার ফ্রায়ারেও ডিমের প্যাটিস তৈরি করা যায়।
এয়ার ফ্রায়ার প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কয়েক মিনিট প্রিহিট করুন।
প্যাটিসগুলো বাস্কেটে রেখে উপরে সামান্য ফেটানো ডিম লাগিয়ে দিন।
প্রায় ১২–১৮ মিনিট রান্না করে দেখুন।
প্যাটিসের আকার ও এয়ার ফ্রায়ারের ক্ষমতা অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
আলু ও ডিমের প্যাটিস
পুর আরও ভারী ও পেটভরা করতে চাইলে ডিমের সঙ্গে সামান্য সেদ্ধ আলু ব্যবহার করতে পারেন।
এর জন্য ১টি মাঝারি সেদ্ধ আলু চটকে ডিমের পুরের সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
সঙ্গে সামান্য চাট মশলা ও ধনেপাতা দিলে স্বাদ আরও বাড়বে।
চিজি ডিমের প্যাটিস
চিজ পছন্দ করলে ডিমের পুরের সঙ্গে অল্প গ্রেট করা চিজ মেশানো যায়।
তবে চিজে নুন থাকে, তাই পুরে নুন দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।
বেক করার সময় চিজ গলে ডিমের পুরের সঙ্গে মিশে যাবে।
ঝাল ডিমের প্যাটিস
ঝাল স্বাদের জন্য পুরে কাঁচালঙ্কা বাড়িয়ে দিন।
এর সঙ্গে সামান্য চিলি ফ্লেক্স ও গোলমরিচ ব্যবহার করা যায়।
চাইলে পরিবেশনের সময় পাশে ঝাল সস রাখতে পারেন।
পরিবেশনের পদ্ধতি
ডিমের প্যাটিস গরম বা হালকা গরম অবস্থায় পরিবেশন করলে সবচেয়ে ভালো লাগে।
এর সঙ্গে দিতে পারেন—
- টমেটো সস
- চিলি সস
- ধনেপাতার চাটনি
- মিষ্টি-ঝাল সস
- চা বা কফি
সকালের জলখাবার বা বিকেলের নাশতায় এক কাপ চায়ের সঙ্গে এই প্যাটিস বেশ মানানসই।
প্যাটিস মুচমুচে রাখার টিপস
১. পাফ পেস্ট্রি অতিরিক্ত গরম বা নরম হতে দেবেন না।
২. ডিমের পুর অবশ্যই ঠান্ডা করে পেস্ট্রিতে ভরুন।
৩. পুরে অতিরিক্ত জলীয় উপকরণ ব্যবহার করবেন না।
৪. প্যাটিসের প্রান্ত ভালোভাবে বন্ধ করুন।
৫. ওভেন আগে থেকে গরম করে নিন।
৬. বেক করার সময় বারবার ওভেনের দরজা খুলবেন না।
৭. বেক করার পর সঙ্গে সঙ্গে ঢেকে রাখবেন না, তাহলে বাষ্পে বাইরের স্তর নরম হয়ে যেতে পারে।
৮. প্যাটিসের ওপর পাতলা করে ডিমের প্রলেপ দিলেই সুন্দর সোনালি রং পাওয়া যায়।
সংরক্ষণ
তৈরি প্যাটিস দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে না খাওয়াই ভালো।
আগে থেকে তৈরি করতে চাইলে বেক করার আগে প্যাটিসগুলো প্রস্তুত করে ফ্রিজে রাখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
পরিবেশনের আগে ভালোভাবে বেক বা পুনরায় গরম করে নেওয়া উচিত।
রান্নার সময়
প্রস্তুতির সময়: ২০ মিনিট
বেক করার সময়: ২০–২৫ মিনিট
মোট সময়: প্রায় ৪৫ মিনিট
পরিমাণ: ৬টি প্যাটিস
পুষ্টির দিক
ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস। পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও অন্যান্য উপকরণ যোগ হওয়ায় পুরে আরও কিছু পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়।
তবে পাফ পেস্ট্রিতে সাধারণত চর্বি ও ক্যালরি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এটি প্রতিদিনের খাবারের বদলে মাঝে মাঝে জলখাবার হিসেবে উপভোগ করা যেতে পারে।
উপসংহার
বাড়িতে বেকারি-স্টাইলের একটি নাশতা তৈরি করতে চাইলে ডিমের প্যাটিস সহজেই চেষ্টা করা যায়। মুচমুচে পাফ পেস্ট্রির স্তর ভেঙে যখন মুখে যাবে, তখন ভিতরের মশলাদার ডিমের পুরের স্বাদ আলাদা আনন্দ দেবে।
সাধারণ সেদ্ধ ডিমকে একটু সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে তৈরি এই রেসিপি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অতিথিদেরও পরিবেশন করা যায়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী আলু, চিজ বা বিভিন্ন সবজি যোগ করে রেসিপিটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করা সম্ভব।

