ডিমের স্টাফড ক্যাপসিকাম — সবজি ও ডিমের অভিনব জলখাবার।

ভূমিকা

ডিম দিয়ে সাধারণত ভুর্জি, অমলেট, কারি কিংবা বিভিন্ন ধরনের নাশতা তৈরি করা হয়। কিন্তু একটু অন্যরকমভাবে ডিম পরিবেশন করতে চাইলে তৈরি করতে পারেন ডিমের স্টাফড ক্যাপসিকাম

এই রান্নায় ক্যাপসিকামের ভিতর থেকে বীজ বের করে তার মধ্যে মশলা দিয়ে তৈরি ডিমের পুর ভরা হয়। এরপর প্যানে, ওভেনে কিংবা এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করে নেওয়া হয়। বাইরে থেকে ক্যাপসিকাম নরম ও হালকা পোড়া, আর ভিতরে থাকে নরম, সুস্বাদু ও মশলাদার ডিমের পুর।

বাড়ির সাধারণ উপকরণ দিয়েই এই অভিনব পদ তৈরি করা যায়। সকালের জলখাবার, বিকেলের নাশতা অথবা হালকা রাতের খাবার হিসেবে এটি পরিবেশন করা যায়।

উপকরণ

প্রধান উপকরণ

  • বড় ক্যাপসিকাম – ৪টি
  • ডিম – ৫টি
  • পেঁয়াজ – ১টি মাঝারি, কুচি
  • টমেটো – ১টি, কুচি
  • গাজর – ½টি, ছোট কুচি
  • ভুট্টা – ২ টেবিল চামচ
  • কাঁচালঙ্কা – ১–২টি, কুচি
  • ধনেপাতা – ২ টেবিল চামচ, কুচি
  • গ্রেট করা চিজ – ½ কাপ
  • তেল – ২ টেবিল চামচ

মশলা

  • নুন – স্বাদমতো
  • হলুদ – ¼ চা-চামচ
  • লঙ্কাগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
  • গোলমরিচ গুঁড়ো – ¼ চা-চামচ
  • জিরাগুঁড়ো – ½ চা-চামচ
  • গরম মশলা – ¼ চা-চামচ
  • চাট মশলা – ½ চা-চামচ

ক্যাপসিকাম প্রস্তুত করা

প্রথমে ক্যাপসিকামগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর প্রতিটি ক্যাপসিকামের উপরের অংশ গোল করে কেটে ঢাকনার মতো আলাদা করে রাখুন।

ভিতরের বীজ ও সাদা অংশ বের করে দিন। তবে ক্যাপসিকামের নিচের অংশ যেন কেটে না যায়।

ক্যাপসিকামের ভিতরে সামান্য নুন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে রাখতে পারেন।

এবার এগুলো কয়েক মিনিটের জন্য উল্টে রাখুন, যাতে ভিতরে থাকা অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়।

ডিমের পুর তৈরি

একটি বড় বাটিতে পাঁচটি ডিম ভেঙে নিন।

এর মধ্যে সামান্য নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো ও লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে রাখুন।

এবার একটি প্যানে এক টেবিল চামচ তেল গরম করুন।

তেলের মধ্যে কুচি করা পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভাজতে শুরু করুন। পেঁয়াজ হালকা স্বচ্ছ হয়ে এলে গাজর ও ভুট্টা দিয়ে দিন।

প্রায় ২–৩ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

এরপর কুচি করা টমেটো, হলুদ, জিরাগুঁড়ো ও লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

টমেটো নরম হয়ে গেলে ফেটানো ডিম ঢেলে দিন।

ডিম ঢালার পর ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন। ডিম পুরোপুরি শক্ত করে ফেলবেন না। হালকা নরম ও ঝরঝরে অবস্থায় থাকতেই আঁচ বন্ধ করে দিন।

সবশেষে ধনেপাতা ও সামান্য গরম মশলা মিশিয়ে নিন।

ক্যাপসিকামের মধ্যে পুর ভরা

এবার প্রস্তুত করা ক্যাপসিকামগুলো একটি প্লেট বা ট্রেতে রাখুন।

চামচ দিয়ে প্রতিটি ক্যাপসিকামের মধ্যে ডিমের পুর ভরুন।

একেবারে মুখ পর্যন্ত পুর ভরবেন না। উপরে সামান্য জায়গা খালি রাখুন, কারণ রান্নার সময় পুর কিছুটা ফুলে উঠতে পারে।

এরপর প্রতিটি ক্যাপসিকামের উপরে গ্রেট করা চিজ ছড়িয়ে দিন।

চিজের সঙ্গে সামান্য চাট মশলা ছড়ালে স্বাদ আরও ভালো হবে।

ওভেনে রান্নার পদ্ধতি

ওভেন ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রিহিট করে নিন।

ক্যাপসিকামগুলো বেকিং ট্রেতে সাজিয়ে রাখুন।

প্রায় ১৫–২০ মিনিট বেক করুন।

ক্যাপসিকামের বাইরের অংশ নরম হয়ে এলে এবং উপরের চিজ গলে হালকা বাদামি রং ধরলে বুঝতে হবে রান্না হয়ে গেছে।

ওভেন থেকে বের করে কয়েক মিনিট রেখে তারপর পরিবেশন করুন।

প্যানে রান্নার পদ্ধতি

ওভেন না থাকলেও এই রান্না করা যায়।

একটি ভারী তলার প্যানে সামান্য তেল মাখিয়ে ক্যাপসিকামগুলো দাঁড় করিয়ে বসিয়ে দিন।

প্যানে ২–৩ টেবিল চামচ জল দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন।

একেবারে কম আঁচে রান্না করুন।

প্রায় ১৫–২০ মিনিট পর ক্যাপসিকাম নরম হয়েছে কি না দেখে নিন।

এরপর ঢাকনা খুলে উপরের চিজ গলানোর জন্য আরও কয়েক মিনিট ঢেকে রাখতে পারেন।

প্যানে রান্না করার সময় আঁচ অবশ্যই কম রাখতে হবে। বেশি আঁচে রান্না করলে ক্যাপসিকামের নিচের অংশ পুড়ে যেতে পারে অথচ ভিতরের অংশ ঠিকমতো গরম নাও হতে পারে।

এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি

এয়ার ফ্রায়ার থাকলে আরও সহজে তৈরি করা যায়।

স্টাফ করা ক্যাপসিকামগুলো এয়ার ফ্রায়ারের বাস্কেটে রাখুন।

প্রায় ১৭০–১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০–১৫ মিনিট রান্না করে দেখুন।

ক্যাপসিকামের আকার ও এয়ার ফ্রায়ারের ক্ষমতা অনুযায়ী সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

আরও সুস্বাদু করার কিছু উপায়

ডিমের পুরে আরও কিছু উপকরণ যোগ করা যায়।

যেমন—

  • মাশরুম কুচি
  • সেদ্ধ মটরশুঁটি
  • পালং শাক কুচি
  • সামান্য সেদ্ধ আলু
  • বিনস কুচি
  • স্প্রিং অনিয়ন
  • অলিভ কুচি

তবে পুরে বেশি উপকরণ দিলে ক্যাপসিকামের ভিতরে তা ভরতে অসুবিধা হতে পারে। তাই পরিমাণ বুঝে ব্যবহার করা উচিত।

চিজ ছাড়া তৈরি

চিজ না থাকলেও এই রেসিপি তৈরি করা যায়।

চিজের পরিবর্তে উপরে সামান্য ব্রেডক্রাম্ব ছড়িয়ে দিতে পারেন। রান্নার সময় এটি হালকা মচমচে হয়ে যাবে।

আরও দেশীয় স্বাদ চাইলে সামান্য ভাজা জিরাগুঁড়ো ও ধনেপাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

ঝাল মশলাদার সংস্করণ

ঝাল পছন্দ করলে ডিমের পুরে কাঁচালঙ্কার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

এর সঙ্গে সামান্য চিলি ফ্লেক্স, গোলমরিচ ও চাট মশলা ব্যবহার করা যায়।

চাইলে অল্প পরিমাণ ঝাল সসও ব্যবহার করা যায়।

তবে শিশুদের জন্য তৈরি করলে ঝাল মশলা কমিয়ে দেওয়াই ভালো।

পরিবেশনের পদ্ধতি

ডিমের স্টাফড ক্যাপসিকাম গরম গরম পরিবেশন করলে সবচেয়ে ভালো লাগে।

একটি প্লেটে একটি বা দুটি স্টাফড ক্যাপসিকাম রেখে পাশে কাঁচা শসা, টমেটো ও লেবুর টুকরো দিতে পারেন।

সঙ্গে টমেটো সস বা দইয়ের ডিপও পরিবেশন করা যায়।

ক্যাপসিকাম মাঝখান থেকে কেটে পরিবেশন করলে ভিতরের ডিমের পুর ও গলে যাওয়া চিজ সুন্দরভাবে দেখা যায়।

রান্নার সময়

প্রস্তুতির সময়: ১৫ মিনিট
রান্নার সময়: ২০ মিনিট
মোট সময়: প্রায় ৩৫ মিনিট

পরিমাণ: ৪ জনের জন্য

গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১. বড় ও শক্ত ক্যাপসিকাম ব্যবহার করলে পুর ভরা সহজ হয়।

২. ক্যাপসিকামের ভিতরের বীজ ও সাদা অংশ ভালোভাবে বের করে নিন।

৩. ডিমের পুর আগে থেকে খুব বেশি শুকিয়ে ফেলবেন না।

৪. ক্যাপসিকাম খুব নরম হয়ে যাওয়ার আগেই রান্না বন্ধ করুন, তাহলে খেতে ভালো লাগবে।

৫. চিজ ব্যবহার করলে ডিমের পুরে নুন পরিমাণমতো দিন।

৬. প্যানে রান্না করলে কম আঁচ ব্যবহার করুন।

৭. ক্যাপসিকামের ভিতরে পুর অতিরিক্ত ভরে দেবেন না।

৮. রান্নার পর ২–৩ মিনিট রেখে দিলে পুর কিছুটা সেট হয়ে যায় এবং পরিবেশন করা সহজ হয়।

পুষ্টির দিক

ডিমে প্রোটিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ক্যাপসিকাম, গাজর, টমেটো ও ভুট্টার মতো সবজি যোগ করায় এই পদে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশও যুক্ত হয়।

তবে চিজ ও তেল বেশি ব্যবহার করলে খাবারটি তুলনামূলকভাবে ভারী হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা খাবার হিসেবে তৈরি করতে চাইলে তেল ও চিজ পরিমিত ব্যবহার করা ভালো।

উপসংহার

প্রতিদিনের পরিচিত ডিমকে একটু অন্যভাবে পরিবেশন করতে চাইলে ডিমের স্টাফড ক্যাপসিকাম একটি আকর্ষণীয় বিকল্প। ক্যাপসিকামের হালকা মিষ্টি স্বাদ, মশলাদার ডিমের পুর এবং গলে যাওয়া চিজ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় একটি সুন্দর ও সুস্বাদু পদ।

বিশেষ করে বাড়িতে অতিথি এলে বা পরিবারের জন্য একটু অভিনব জলখাবার তৈরি করতে চাইলে এই রেসিপিটি সহজেই চেষ্টা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *