৪১ কিমি ফোর লেনের কাজ আট বছরেও অসম্পূর্ণ, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস।
আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দীর্ঘ আট বছরেও ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি প্রায় ৪১ কিলোমিটার মহাসড়ক বা ফোর লেনের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে রাস্তার কাজ ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ ঘিরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক পরিতোষ দাস। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাংশের আধিকারিক-কর্মীদের যোগসাজশে অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে CID তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি শালকুমারহাটে বিজেপির তপশিলি মোর্চার এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কের কাজ নিয়ে সরব হন বিধায়ক। তাঁর দাবি, অন্যান্য জায়গায় তুলনামূলক কম সময়ে মহাসড়কের কাজ এগিয়ে গেলেও ফালাকাটা এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এর পিছনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, তাঁর হাতে আসা একটি নথিতে ‘এস সরকার’ নামে এক ব্যক্তির ১০-১২ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন বিধায়ক।
পরিতোষ দাস আরও অভিযোগ করেন, জমি ও বাড়ির ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে কোথাও প্রকৃত মালিককে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়া হলেও বাড়ির কাঠামো বা ‘স্ট্রাকচার’-এর ক্ষতিপূরণের টাকা অন্য ব্যক্তির নামে দেখিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের অনিয়মের আরও তথ্য তাঁর হাতে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে চিঠি লিখবেন।
বিধায়ক বলেন, ফোর লেন প্রকল্পে অতীতে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে CID তদন্তের দাবি জানাবেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৪ জনের নাম থাকা একটি নথিতেই যদি প্রায় এক কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে দীর্ঘ সময়ের একাধিক নথিতে মোট অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।
এদিকে বিধায়কের বক্তব্যে উঠে আসা ‘এস সরকার’ নামে ব্যক্তির সম্পূর্ণ পরিচয় বা তাঁর সঙ্গে মহাসড়ক প্রকল্পের যোগসূত্র সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ওই ব্যক্তিকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হলেও, সেগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বিধায়কের অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আর্থিক প্রলোভনেরও প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অভিযোগেরও কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
মহাসড়কের কাজের দীর্ঘসূত্রিতা, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ এবং কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত সত্য কী, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। বিধায়ক CID তদন্তের দাবি জানানোর কথা বলায় এখন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

