ত্রাণশিবির থেকে বাড়ি ফিরছেন অনেকে, তবুও জলের তলায় বিস্তীর্ণ এলাকা—বাড়ছে ফসলহানির আশঙ্কা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন ব্লক এবং কেশিয়াড়ির কিছু অংশ এখনও জলমগ্ন। বিশেষ করে কেলেঘাই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার জেলাশাসক বিজন কৃষ্ণ জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোহনপুর ও সবং ব্লক। দুর্গত মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০টি সরকারি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় জলস্তর কিছুটা কমেছে। অনেক মানুষ ত্রাণশিবির ছেড়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সবংয়ের দশগ্রাম, সারতা, বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক অঞ্চলের গ্রামীণ রাস্তায় এখনও কোমরসমান জল জমে রয়েছে। ফলে বহু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলমগ্নতার কারণে বেশ কয়েকটি স্কুলে আপাতত পঠন-পাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিঘার পর বিঘা চাষের জমি এখনও জলের তলায় থাকায় কৃষকদের মধ্যে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জলবন্দি মানুষের দৈনন্দিন জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতেই সময় কাটছে। আবার জীবিকার তাগিদে অনেকে জমে থাকা জলে মাছ ধরতে নামছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা ও বসতবাড়ির আশপাশে জল জমে থাকায় যাতায়াত থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে জল পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত দুর্ভোগ যে কাটছে না, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *