রেসিপি : পাটিসাপটা পিঠে — বাঙালির শীতের মিষ্টি।।

পৌষ-পার্বণ এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠেপুলির আয়োজন শুরু হয়। আর সেই তালিকায় পাটিসাপটা পিঠের জনপ্রিয়তা বরাবরই আলাদা। পাতলা নরম আবরণের ভিতরে নারকেল, ক্ষীর ও গুড়ের মিষ্টি পুর—এক কামড়েই যেন ধরা পড়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী রান্নার স্বাদ।
আজ রইল বাড়িতে সহজ উপায়ে নরম, সুস্বাদু পাটিসাপটা পিঠে তৈরির সম্পূর্ণ রেসিপি।

পাটিসাপটা পিঠে তৈরির সম্পূর্ণ রেসিপি

প্রস্তুতির সময়: ২৫ মিনিট
রান্নার সময়: ৩০ মিনিট
পরিমাণ: ১০–১২টি পিঠে

উপকরণ

পিঠের বাইরের আবরণ তৈরির জন্য

  • চালের গুঁড়ো — ১ কাপ
  • ময়দা — ½ কাপ
  • সুজি — ¼ কাপ
  • দুধ — ১½ কাপ (প্রয়োজন অনুযায়ী কমবেশি)
  • চিনি — ২ টেবিল চামচ
  • এক চিমটি নুন
  • সাদা তেল বা ঘি — পিঠে ভাজার জন্য

পুর তৈরির জন্য

  • কোরানো নারকেল — ১½ কাপ
  • খেজুরের গুড় — ¾ কাপ
  • ক্ষীর বা খোয়া ক্ষীর — ১০০ গ্রাম (ঐচ্ছিক)
  • এলাচ গুঁড়ো — ½ চা চামচ

প্রণালী

প্রথম ধাপ: মিষ্টি পুর তৈরি করুন

একটি কড়াইয়ে কোরানো নারকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে কম আঁচে নাড়তে থাকুন। গুড় গলে নারকেলের সঙ্গে মিশে গেলে ক্ষীর বা খোয়া ক্ষীর যোগ করুন। এরপর এলাচ গুঁড়ো দিয়ে আরও ৪–৫ মিনিট নাড়ুন।

মিশ্রণটি আঠালো হয়ে একসঙ্গে জমতে শুরু করলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। পুর খুব শুকনো করবেন না, আবার অতিরিক্ত ভেজাও রাখবেন না। এবার পুরটি ঠান্ডা হতে দিন।

দ্বিতীয় ধাপ: পিঠের গোলা তৈরি করুন

একটি বড় পাত্রে চালের গুঁড়ো, ময়দা, সুজি, চিনি ও এক চিমটি নুন মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে দুধ ঢেলে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন, যাতে কোনো দলা না থাকে।

গোলাটি এমন হবে, যাতে তাওয়ায় ঢাললে সহজে ছড়িয়ে পাতলা আবরণ তৈরি হয়। খুব ঘন হলে আরও সামান্য দুধ মেশান। এবার গোলাটি ১৫–২০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এতে সুজি কিছুটা নরম হবে এবং পিঠের আবরণ ভালো হবে।

তৃতীয় ধাপ: পাটিসাপটা তৈরি করুন

একটি নন-স্টিক তাওয়া বা সমতল কড়াই মাঝারি আঁচে গরম করুন। সামান্য তেল বা ঘি মাখিয়ে নিন।

এক হাতা গোলা তাওয়ার মাঝখানে ঢেলে চামচের পিছন দিয়ে গোল করে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন। খুব বেশি মোটা করবেন না। আবরণটি একটু জমে এলে আঁচ কমিয়ে দিন।

চতুর্থ ধাপ: পুর ভরে মুড়ে দিন

পিঠের মাঝ বরাবর লম্বালম্বি করে ১–২ টেবিল চামচ নারকেলের পুর রাখুন। এবার একদিক থেকে ধীরে ধীরে মুড়ে রোলের মতো করে নিন।

কয়েক সেকেন্ড তাওয়ায় রেখে তুলে নিন। পিঠে উল্টেপাল্টে বেশি ভাজবেন না, কারণ পাটিসাপটার আবরণ নরম থাকলেই খেতে বেশি ভালো লাগে।

পঞ্চম ধাপ: বাকি পিঠে তৈরি করুন

একইভাবে বাকি গোলা ও পুর দিয়ে একে একে পাটিসাপটা তৈরি করুন। প্রতিবার তাওয়ায় সামান্য তেল বা ঘি মাখিয়ে নিলে পিঠে সহজে উঠবে এবং আটকে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।

সুস্বাদু পাটিসাপটা তৈরির বিশেষ টিপস

১. নরম পিঠের জন্য: গোলা খুব ঘন করবেন না। পাতলা ও মসৃণ গোলা হলে আবরণ সহজে ছড়াবে।

২. পুরের স্বাদ বাড়াতে: খেজুরের গুড়ের সঙ্গে সামান্য ক্ষীর মেশালে পাটিসাপটা আরও সমৃদ্ধ স্বাদের হবে।

৩. পিঠে ফেটে গেলে: গোলা খুব পাতলা হয়ে গেলে সামান্য ময়দা বা চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন।

৪. আঁচ নিয়ন্ত্রণ করুন: বেশি আঁচে পিঠে দ্রুত শুকিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে। মাঝারি থেকে কম আঁচে রান্না করুন।

৫. আগে থেকে তৈরি করতে: পুর আগে তৈরি করে ফ্রিজে রাখা যায়। ব্যবহারের আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে নিন।

কীভাবে পরিবেশন করবেন?

পাটিসাপটা গরম বা ঠান্ডা—দুইভাবেই খেতে ভালো লাগে। চাইলে ওপরে সামান্য খেজুরের গুড়ের রস ঢেলে পরিবেশন করতে পারেন। শীতের বিকেলে এক কাপ চায়ের সঙ্গে এই পিঠে জমে যাবে।

বাড়িতে তৈরি নরম পাটিসাপটা পিঠে শুধু একটি মিষ্টি নয়, এটি বাঙালির শীতের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের স্বাদ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বানিয়ে উপভোগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *