বাজারে ৭ হাজার টাকা, আবাস যোজনার উপভোক্তাদের ১৫০০ টাকায় বালি দিচ্ছে খাতড়া ব্লক প্রশাসন।
পুরুলিয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:-খাতড়া ব্লকে কোনও বালিঘাট নেই। ফলে নির্মাণকাজের জন্য বালি আনতে হয় ওন্দা, পুরুলিয়ার মানবাজার সহ দূরের এলাকা থেকে। এলাকায় যারা বালি ব্যবসায়ী আছেন তারা বড় ট্রাকে করে বালি এনে ট্রাক্টারে করে বিক্রি করেন। কিন্তু বর্ষায় বৈধ বালিঘাটগুলির একাংশ বন্ধ থাকায় সেই সমস্যা আরও বেড়েছে। বাজারে এক ট্রাক্টর বালির দাম পৌঁছেছে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকায়। অনেক ক্ষেত্রে বেশি দাম দিয়েও সময়মতো বালি মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির কাজে সমস্যায় পড়ছিলেন উপভোক্তারা। সেই সমস্যা কিছুটা মেটাতে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য ১৫০০ টাকায় বালি দেওয়ার ব্যবস্থা করল খাতড়া ব্লক প্রশাসন। আজ খাতড়ার খড়বন মোড় এলাকায় বালি মজুত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তা দেওয়া শুরু হয়। আপাতত একজন উপভোক্তাকে ১০০ সিএফটি বালি দেওয়া হচ্ছে। তবে বালি পরিবহণের খরচ উপভোক্তাকেই বহন করতে হচ্ছে।
বিডিও (খাতড়া) দেবজিৎ রায় বলেন, ব্লকে বর্তমানে আবাস যোজনার প্রায় ২৭৩৮ জন উপভোক্তা রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত ৩০০০ সিএফটি বালি পাওয়া গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যারা সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন, মূলত তাদের জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্লক অফিসে নথিপত্র যাচাইয়ের পরে উপভোক্তাদের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে। তাদের একটি টোকেন দেওয়া হচ্ছে। সেই টোকেন দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে বালি নেওয়া যাচ্ছে।
বিএলআরও (খাতড়া) দেবাশীষ সরকার বলেন, বর্তমানে বালির সঙ্কট রয়েছে। প্রশাসনের তরফে মেজিয়া এলাকা থেকে বালি এনে আবাসের উপভোক্তাদের ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। মেজিয়ার একটি বালিঘাটের ইজারাদারকে বালি সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খাতড়া এলাকায় এমনিতেই বালি সহজে পাওয়া যায় না।
খাতড়ার আমাডোবা গ্রামের মহাদেব মাহাতো, সোনারডাঙ্গার সুকদেব হেমব্রমরা বলেন, দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু বালির জন্য বাড়ির কাজ এগোচ্ছিল না। এখানে ১৫০০ টাকায় বালি পাওয়ায় অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। বাজারে এক ট্রাক্টর বালির জন্য সাত হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছিল।

