কলকাতায় সিআইআই-এর ১৯তম ব্যাংকিং আলোচনা সভা, পূর্ব ভারতের শিল্পোন্নয়নে ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা।
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: পূর্ব ভারতের শিল্পোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর ১৯তম ব্যাংকিং আলোচনা সভা। শুক্রবার আয়োজিত এই সম্মেলনে ৩০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। ‘ব্যাংকিং বিয়ন্ড ক্রেডিট: পাওয়ারিং ইস্টার্ন ইন্ডিয়াজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ’—অর্থাৎ ঋণের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ব ভারতের শিল্পোন্নয়নে ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে একাধিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যাংকার এবং শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। শিল্পোন্নয়নে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা, মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) বিকাশ এবং পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান ড. অশোক লাহিড়ী ঋণের প্রবাহ, বিনিয়োগ এবং পূর্ব ভারতের শিল্পোন্নয়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সিআইআই ইস্টার্ন রিজিয়নের ডেপুটি চেয়ারম্যান, লক্ষ্মী গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ওবিটির চেয়ারম্যান রুদ্র চ্যাটার্জী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ছোট উদ্যোগগুলিকে বৃহত্তর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য উপযুক্ত সহায়তা ও সুযোগ তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সিআইআই ইস্টার্ন রিজিয়ন ব্যাংকিং কোলোকিয়ামের চেয়ারম্যান এবং বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন, “পূর্ব ভারত ঐতিহাসিকভাবে বেশ কয়েকটি প্রধান শিল্পের কেন্দ্রস্থল এবং এর উল্লেখযোগ্য শক্তি রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প করিডোর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উৎপাদন ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের এই শক্তিগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।”
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত, বন্ধন ব্যাংকের অংশুমান ঘোষ, সুমেধা ফিসকাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ডিরেক্টর বিজয় মুরমুরিয়া, ইন্ডক্যাপ অ্যাডভাইজারস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর সমীর আগরওয়াল এবং টিটাগড় রেল সিস্টেমস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পৃথ্বীশ চৌধুরী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেবাশীষ দত্ত, বন্ধন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও সিওও রতন কুমার কেশ এবং চিফ ইকোনমিস্ট ও হেড অব রিসার্চ সিদ্ধার্থ সান্যাল-সহ ব্যাংকিং ও শিল্পক্ষেত্রের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সম্মেলনের আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পূর্ব ভারতের শিল্পোন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে শুধু ঋণ প্রদানই নয়, বরং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি, এমএসএমই-কে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং শিল্পক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

