মোবাইলের পর্দা ছেড়ে নাটকের মঞ্চে পড়ুয়ারা, বালুরঘাটে জমজমাট স্কুল ড্রামা ফেস্টিভ্যাল।
বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর: মঞ্চের আলোয় তিন দিন। সংলাপ, অভিনয় আর চরিত্রের টানাপোড়েনে বালুরঘাট নাট্যমন্দিরে জমে উঠেছিল স্কুলপড়ুয়াদের নাট্যোৎসব। রবিবার রাতে শেষ হল বালুরঘাট নাট্যকর্মী আয়োজিত দশম বর্ষের স্কুল ড্রামা ফেস্টিভ্যাল।
তিন দিনের এই নাট্যোৎসবে মোট ১২টি স্কুলের ১২টি নাটক মঞ্চস্থ হয়। স্কুলপড়ুয়াদের অভিনয় দেখতে প্রতিদিনই নাট্যমন্দিরে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল এই স্কুল ড্রামা ফেস্টিভ্যালের পথচলা। তবে এক বছর বন্যা এবং পরপর দু’বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসবে ছেদ পড়েছিল। সেই বাধা পেরিয়ে এ বার দশম বর্ষে পৌঁছল বালুরঘাট নাট্যকর্মীর এই আয়োজন।
শুক্রবার উৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যকার ও লেখক বিনয়ভূষণ মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘কনৎনূপুরা’ নৃত্যদলের নৃত্য পরিবেশনাও ছিল। এরপর তিন দিন ধরে একের পর এক স্কুলের পড়ুয়ারা মঞ্চে নিজেদের অভিনয় প্রতিভা তুলে ধরে।
আয়োজকদের মূল লক্ষ্য, মোবাইল ফোনের পর্দায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর পরিবর্তে পড়ুয়াদের নাটকের মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করা। বালুরঘাট নাট্যকর্মীর সম্পাদক অমিত সাহা বলেন, “আজকের মোবাইল-আসক্তির যুগে ছোটদের মঞ্চে ফিরিয়ে আনাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
নাটকের মাধ্যমে পড়ুয়ারা শুধু অভিনয় নয়, সংলাপ বলা, মঞ্চসজ্জা এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অর্জন করে বলে জানান তিনি। অমিত সাহার কথায়, স্কুল ড্রামা ফেস্টিভ্যাল শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং আগামী প্রজন্মের মধ্যে নাটকের প্রতি আগ্রহ তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা।
তিন দিনের উৎসবের পর্দা নামলেও পড়ুয়াদের নিয়ে এই নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। তাঁদের লক্ষ্য, মঞ্চের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের এই যোগাযোগ আরও দৃঢ় করা এবং নাটকের প্রতি আগ্রহের সেই ‘বীজ’ ভবিষ্যতেও বাঁচিয়ে রাখা।

