চায়ের দোকানে হামলা, রাস্তায় ফেলে মারধর—মেদিনীপুরে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের হাতিহলকায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে কদমতলা বাজার এলাকায় চা খেতে গিয়ে আক্রান্ত হন ৩২ বছরের সামশের বিশ্বাস। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ভাগ্নে জাফরকে সঙ্গে নিয়ে চা খেতে এসেছিলেন সামশের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বিজেপি কর্মীও। চায়ের দোকানে বসে যখন তাঁরা আড্ডা দিচ্ছিলেন, সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী লাঠি ও রড নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, প্রথমে সামশেরকে ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়। এরপর তাঁকে চায়ের দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে এসে বেধড়ক মারধর করা হয়। মামাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর ভাগ্নে জাফর। ছুটে আসেন সঙ্গে থাকা বিজেপি কর্মীরাও। কিন্তু তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা সেখান থেকে সরে যান।
ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ফুটেজে রাস্তার মাঝখানে সামশেরকে ঘিরে একাধিক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি। কারও হাতে লাঠি, আবার কেউ তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ছে বলেও অভিযোগ। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে মারধর চলে বলে স্থানীয়দের দাবি। সামশেরকে ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর জখম অবস্থায় সামশেরকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতিহলকা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঘটনার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, দলের পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। খড়্গপুর-৩ গ্রামীণ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সন্দীপ করণের দাবি, সামশের দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে নব্য বিজেপি অথবা তৃণমূলের কেউ থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কোতোয়ালি থানার আইসি দীপঙ্কর দাস জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত চলছে। সামশেরের উপর হামলার নেপথ্যে কী কারণ ছিল এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *