সাংস্কৃতিক পুনরুত্থান থেকে শিল্প-বিনিয়োগ, ‘রাইজিং ভারত’ কনক্লেভে একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দুর্গাপুজোয় আমিষ না নিরামিষ—এই বিতর্ককে ঘিরে চলতে থাকা রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজায় ইতি টানার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নিউজ ১৮-এর ‘রাইজিং ভারত, রাইজিং ওয়েস্ট বেঙ্গল’ কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি হিন্দু সমাজে শাক্ত ও বৈষ্ণব—দুই ধারারই দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। কে কোন আচার ও খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করবেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। এই অধিকার ধর্মের পাশাপাশি দেশের সংবিধানও দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণেশ চতুর্থীর দিন আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ধর্মীয় আচার পালনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাটে পুজো দিয়ে মাছের মাথা-সহ ভোগ গ্রহণ করেছেন। আবার রাধাষ্টমীতে গৌড়ীয় মঠে গিয়ে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করবেন। তাঁর বক্তব্য, শাক্ত ও বৈষ্ণব—দুই ধারারই নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করার অধিকার রয়েছে।

এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কাউকে আক্রমণ করা বা বিদ্বেষ ছড়ানো উচিত নয় বলেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, ধর্মীয় আচারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

এদিন সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানকেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। লোকসংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত, নাটক, সাহিত্য-সহ বাংলার বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি আধ্যাত্মিক চেতনার প্রসারের উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, ইস্কন এবং গৌড়ীয় মঠের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গীতা শুধুমাত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, এর মধ্যে জীবনযাপনের শিক্ষাও রয়েছে।

দুর্গাপুজোকে ঘিরে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের কথাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার আগে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে না। অষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

এর পাশাপাশি রেড রোডে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল আয়োজনের পূর্ববর্তী রীতির সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবর্তে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে ঢাক, ধুনুচি এবং ড্রোন শোর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর সূচনা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা, শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়েও কনক্লেভে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত চার মাসে রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ, জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন, নেশামুক্ত ক্যাম্পাস তৈরি এবং ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

বক্তৃতার শেষপর্বে দেশ-বিদেশের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকার কাটমানি, সিন্ডিকেট ও তোলাবাজিমুক্ত শিল্প পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের আগেই বক্তব্য শেষ করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *