নিয়ম না মানার অভিযোগে ধনেখালির নার্সিংহোম সিল, পুলিশ নিয়ে রাতে অভিযান স্বাস্থ্য দফতরের।

হুগলি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম না মানার অভিযোগে হুগলির ধনেখালির মদনমোহনতলা এলাকার একটি নার্সিংহোম সিল করে দিল স্বাস্থ্য দফতর। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নার্সিংহোমে অভিযান চালিয়ে সেটি সিল করে দেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ম না মানার অভিযোগ ছিল। নার্সিংহোম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো, মেডিক্যাল অফিসার, জিএনএম নার্সিং স্টাফ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত জুলাই মাসে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর।

অভিযোগ, সেই সময় নার্সিংহোমটি বন্ধ থাকলেও কয়েকদিন পর ফের সেখানে রোগী ভর্তি শুরু হয়। এরপর নতুন করে অভিযোগ আসার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর।

হুগলি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলিকের নির্দেশে ধনেখালি বিএমওএইচ এবং ডেপুটি সিএমওএইচ ত্রিদীপ মুস্তাফি-সহ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা বৃহস্পতিবার রাতে ওই নার্সিংহোমে যান। ধনেখালি থানার পুলিশকেও সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর নার্সিংহোমটি সিল করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, নার্সিংহোমের পরিচালক কেনারাম দে স্বাস্থ্য দফতরের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, নার্সিংহোমে কিছুটা পরিকাঠামোগত ঘাটতি ছিল, তা তিনি স্বীকার করেন। তবে পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা ঠিক করে নার্সিংহোমের রিনিউয়ালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

কেনারাম দে-র আরও দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই নার্সিংহোমটি বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্য আধিকারিকরা তাঁকে না জানিয়ে নার্সিংহোমে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই নার্সিংহোমে পরিষেবা চলাকালীন কোনও রোগীর মৃত্যু বা বড় ধরনের সমস্যা ঘটেনি। স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ডেপুটি সিএমওএইচ-১-এর বক্তব্য, স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী নার্সিংহোমে একাধিক নিয়ম মানা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। দু’বার চিঠি দেওয়ার পরও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বন্ধ করার নির্দেশ কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ।

স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকের দাবি, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও নার্সিংহোম চালু থাকায় মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশ অনুযায়ী এদিন সেটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের উপস্থিতিতে নার্সিংহোম সিল করার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রোগীদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *