নিগমনগর বাজারে নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ, দিনহাটা-সাহেবগঞ্জ রুটে অবরোধে ভোগান্তি।

কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বাজারের নৈশ প্রহরীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল দিনহাটা এক ব্লকের নিগমনগর বাজারে। ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে পথ অবরোধে সামিল হলেন ব্যবসায়ীরা। এর জেরে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে দিনহাটা-সাহেবগঞ্জ রুটে যান চলাচল। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় পথ চলতি সাধারণ মানুষকে। জানা গিয়েছে, গত রাতে তিন যুবক বাইকে চেপে এসে ওই বাজারের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে জানতে চান এলাকায় কোথায় মদের দোকান রয়েছে। এরপর তারা জানায় বাজারের মদের দোকান থাকলেও রাত হয়ে যাওয়ায় মদের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই কথা শোনার পরে ওই তিন যুবক সেখান থেকে চলে গিয়ে বাজারে সেই মদের দোকান খোলা রয়েছে কিনা দেখতে যান। কিছুক্ষণ পরেই আবার ফিরে এসে ওই তিন যুবক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুজনের উপর চড়াও হয়। সেখানে থাকা অজিত হেমব্রম নামে একজনকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ফলে রাতের অন্ধকারে বাজার চত্বরে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ বাজারের ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকেই বাজারের ব্যবসা বন্ধ রেখে পথ অবরোধের শামিল হন ব্যবসায়ীরা। ঘটনার খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ পৌঁছে দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরেই অবরোধ উঠে যায়। তবে সেই অবরোধ উঠে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় অবরোধ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। এরপরে আবারো শুরু হয় পথ অবরোধ। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল যতক্ষণ না সেই হুমকি দেওয়া পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে এসে না পৌঁছাবেন তারা অবরোধ চালিয়ে যাবেন। পরবর্তী সময়ে দিনহাটা থানার আইসি বুধাদিত্য রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার পর সেই অবরোধ উঠে যায় এবং ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা হয় যাতে এঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। বাজারের ব্যবসায়ীদের কথায় বছর দুয়েক আগে এই বাজারে চুরির ঘটনা ঘটেছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাজারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই রাত্রিবেলা নিরাপত্তা কর্মী রাখা হয়েছিল। সেই কর্মীদেরই এদিন মারধর করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। নিগমনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুবল চন্দ্র বর্মন বলেন, শুক্রবার রাতে আরজি পার্টির ২ সদস্যকে মারধর করার ঘটনার প্রতিবাদে আমরা অবরোধ করেছিলাম। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। মূলত বাজারে এলাকায় ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে তারা যাতে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন সেজন্যই বাজারে আরজি পার্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের উপরের মারধরের ঘটনা কখন মেনে নেওয়া যায় না। এদিন তিনি আরো বলেন প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তারপর আবার পথ অবরোধ করেছিলাম আমরা পরে পুলিশের আধিকারিকরা এবং দিনহাটা থানার আইসি এসে আশ্বস্ত করেছেন তাই অবরোধ তুলে নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *