মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, তৎপর ভিলেজ পুলিশের হাতে আটক গাড়ি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা : – সোনা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক মহিলাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে তৎপরতার সঙ্গে গাড়ি আটক করে অভিযুক্তদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন চাইপাট এলাকার ভিলেজ পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দাসপুর থানার চাইপাট এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ আবু আলম মল্লিক নামে এক ব্যক্তি বাকিবাজার এলাকায় আসেন। অভিযোগ, সেখান থেকে এক মহিলাকে জোরপূর্বক তাঁর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে চাইপাট এলাকার ভিলেজ পুলিশ নাসিম আলী দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন। অভিযোগ, চাইপাট-বাকিবাজার এলাকায় তিনি গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে গাড়িটি দ্রুত গতিতে তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। সামান্যর জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।

এরপর গাড়িটিকে আটক করে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন নাসিম আলী। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তরা দাসপুর থানার এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নাসিম আলী ওই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। তবে ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিক এমন কোনও নির্দেশ দেওয়ার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এরপর ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আটক করে প্রথমে চাইপাট পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের দাসপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আপাতত তাঁরা দাসপুর থানাতেই রয়েছেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি সোনা লেনদেনের বিবাদ বলে দাবি। সূত্রের খবর, নুর আলম নামে এক ব্যক্তির ২৮০ গ্রাম সোনা আবু আলম মল্লিকের মাধ্যমে আখতার আলী নামে এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সোনা ফেরত দেওয়া হয়নি। বারবার সময় দেওয়ার পরেও সোনা ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত বলে জানা যাচ্ছে।

আবু আলম মল্লিকের দাবি, ওই সোনার পাওনা বাবদ প্রায় ৮ লক্ষ টাকা মেটানোর কথা রয়েছে এবং তা মঙ্গলবারের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সেই পাওনা আদায়ের বিষয়কে কেন্দ্র করেই বাকিবাজারে যাওয়া হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, মহিলাকে কেন জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সোনা ও টাকার লেনদেনের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক কতটা—তা তদন্ত করে দেখছে দাসপুর থানার পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *