অন্নপূর্ণা ও আবাস যোজনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বিজেপি জেলা পরিষদ সদস্যের বক্তব্য ভাইরাল।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- সরকারের নামে কুৎসা করলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বন্ধ করে দেব। যদি নাম উঠাতে পারি , নাম কাটতেও পারবো। পথসভা থেকে বিজেপির জেলা পরিষদ সদস্যের হুংকার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হবিবপুর থানার কলাইবাড়ি এলাকাতে অন্নপূর্ণা ও আবাসের ঘর নিয়ে বিজেপির জেলা পরিষদ সদস্য হুঁশিয়ারি। সেই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
মালদা জেলা পরিষদের সদস্য তারাশঙ্কর রায় এদিন অন্নপূর্ণা ও আবাসের ঘর নিয়ে একটি পথসভা করেন।এদিন তিনি কলাইবাড়ি, ঋষিপুর গ্রামে সেই পথসভা থেকে মানুষকে অন্নপূর্ণা নিয়ে হুঁশিয়ারি করে দেন। তিনি বলেন বিজেপি সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেবেন তারপরও এই সরকারের বদনাম করবেন এটা চলবে না। যারা যারা অন্নপূর্ণা পেয়েছেন তারপরেও সরকারের নামে বদনাম করছেন, যারা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের নাম তুলেছেন তারাও সরকারের নামে বদনাম করছেন। আমি তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই সাবধান হয়ে যান বন্ধু নামটা ওঠানোর যদি ক্ষমতা রাখতে পারি নামটা কেটে দেওয়ার ক্ষমতাও আমরা রাখতে পারি। বিজেপির সুনাম করতে হবে না কিন্তু সরকারের খাব সরকারের সুযোগ-সুবিধা নেব আর সরকারের নামে চায়ের দোকানে মিষ্টি দোকানে সরকারি নামে বদনাম করব এই সমস্ত নাম যদি আমার কানে আসতে পেরেছে এই শ্রীরামপুর ঋষিপুর কলাইবাড়িতে আইহো বুলবুলিতে তাহলে জেলা পরিষদ মেম্বার হিসেবে তারা কিভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাচ্ছে আর অন্নপূর্ণা পরের মাস থেকে কিভাবে পাচ্ছে তার ব্যবস্থা করব। সরকারের যদি খেয়ে থাকো সরকারের গুণাগুণ গাইতে হবে। সরকারের সুনাম যদি করতে পারো তাহলেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেব আর সরকারের নামে দুর্নাম করব, সরকারের নামে মিথ্যা গুজব রটাবো ওগুলো চলবে না। আমরা চাই অন্নপূর্ণা বলুন আর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বলুন আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বলুন আমরা সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা কোন কংগ্রেস দেখব না, আমরা কোন তৃণমূল দেখবো না, আমরা কোন সিপিএম দেখবো না, আমরা বিজেপি দেখব না। সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা অনলাইনে এর মাধ্যমে করতে হবে। কোন নেতাকে ধরার দরকার নাই। তৃণমূলের যে কোনো নেতাকে ধরে কাজ হয় আপনার সেই আবেদন এখানে জমা পড়বে। জেলা লেবেলে গিয়ে আমরা নাম কেটে দেব। ১৫ বছর ধরে অনেক অত্যাচার করেছেন। এই পনেরো বছরে ২১ টা মিথ্যা কেস দিয়েছেন। এখনো মালদা আদালতে হাজিরা দিতে দৌড়াতে হয়। আপনারা গরীব মানুষ আপনাদের ওপর কিছু করতে চাই না। কিন্তু এখনো যদি তৃণমূলের ছত্রছায়াতে থেকে কেউ যদি সরকারের নামে দুর্নাম করে সে বড়লোক হন বা গরিব হন আপনাদের ব্যবস্থা আমরা নেব।
কেন তিনি এই মন্তব্য করলেন, এই প্রশ্নের জবাবে বিজেপির ওই জেলার পরিষদ সদস্য বলেন মানুষ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছে। শহর গ্রামে। কিছু তৃণমূলের লোক ভুল তথ্য দিয়ে নিজেদের পরিবারের একাউন্টে টাকা ঢুকিয়েছে। এখন সরকারের নামে কুৎসা করে বেড়াচ্ছে। আর সেই কারণেই আমি এই মন্তব্য করেছি। অনেকেই আছে যারা পাওয়ার যোগ্য না তারা নিজেদের লোকেদের কাজে লাগিয়ে সেই টাকা নিয়েছে এদের নামে আমরা অভিযোগ জানাবো। যাতে তাদের নাম বাতিল হয়। এই সরকার ঝুকবে না।
জেলা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, জেলা পরিষদ সদস্য কলায় বাড়ি এলাকায় মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে বিজেপি সরকারের ভুল ধারণা গাইতে হবে। এটা কি ধরনের কথা। একটা সরকার যখন তৈরি হয় তখন সেটা জনসাধারণের সরকার তৈরি হয়। আপনি সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন। আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছেন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন। এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষ আন্দোলন করছে। আপনাদের বিরুদ্ধে বলছে। এইভাবে আপনারা জনসাধারণের মুখ বন্ধ করবেন। আমরা অনুরোধ করি এইসব নেতাদের আপনারা মুখে লাগাম দেন। সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা থেকে আটকান। এইভাবে হুমকি দেবেন না। কারণ সাধারণ মানুষের ভোটেই আপনারা নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারে এসেছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানালাম। আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা আন্দোলনের নামবো প্রতিবাদ জানাবো।
যারা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাদের মাপ যোগ করে কথা বলা উচিত। দাবি বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *