মেদিনীপুরে তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য, আদালত চত্বরে বিজেপির বিক্ষোভ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা গণি ইসমাইল মল্লিক। রবিবার গভীর রাতে কোতওয়ালি থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার সকালে তাকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা “চোর চোর” স্লোগান দিতে শুরু করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গণি ইসমাইল মল্লিকের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। রবিবার রাতে মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহল্কা এলাকার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার ধৃতকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ। ধৃতকে আদালতে তোলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরে ভিড় জমে যায় রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের।
গণি ইসমাইল মল্লিক শুধু পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষই নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেদিনীপুরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। পাশাপাশি মেদিনীপুর সদর ব্লক তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। দলীয় সংগঠনে তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি ছিল। ফলে তার গ্রেপ্তারি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরমহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, গণি ইসমাইল মল্লিক ওই এলাকার বিধায়ক তথা তৃণমূলের চেয়ারম্যান দীনেন রায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা-র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সোমবার আদালতে তোলার সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের স্লোগানে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও আদালত চত্বরে মোতায়েন থাকা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে, সে জন্য আদালত ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
গোটা ঘটনায় এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশ ও পুলিশের তদন্তে। দুর্নীতির অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়, আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *