শিক্ষার আলো সমাজের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার এক অভিনব প্রয়াস দেখা গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলিতে।
হিলি, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- সরস্বতী পুজো মানেই বিদ্যার আরাধনা, আর সেই শিক্ষার আলো সমাজের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার এক অভিনব প্রয়াস দেখা গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলিতে। রবিবার সীমান্ত এলাকায় দুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটালেন বালুরঘাটের বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. পয়োধি ধর ও তাঁর স্ত্রী সঞ্চারি সিনহা ধর।
হিলির ত্রিমোহিনী এলাকায় আদিবাসী যুব সংঘ ও কলকাতা নারচার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন আদিবাসী শিশুর হাতে খাতা, বই, কলমসহ প্রয়োজনীয় পড়াশোনার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। শুধু উপহার দেওয়া নয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুমনের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলার এক মহৎ প্রচেষ্টা চালালেন চিকিৎসক দম্পতি।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় আদিবাসী নৃত্যের মাধ্যমে, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন রচনা করে। এরপর অতিথিরা সরস্বতী পুজোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং শিক্ষা বিস্তারে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ড. পয়োধি ধর বলেন, “সরস্বতী পুজো শুধুমাত্র দেবীর আরাধনা নয়, এটি শিক্ষার প্রসার ঘটানোরও দিন। এই ছোট্ট প্রয়াস যদি একটিও শিশুকে শিক্ষার পথে অনুপ্রাণিত করে, তাহলেই আমাদের উদ্যোগ সফল।”
সমাজসেবী সুরজ দাস বলেন, “উৎসবের দিনে এমন মহৎ উদ্যোগ সমাজকে শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে।” বিশিষ্টজনেরা একবাক্যে স্বীকার করেন, এই প্রয়াস শুধুমাত্র একদিনের নয়, বরং ভবিষ্যতে শিক্ষার প্রতি শিশুদের টান বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
চিকিৎসা জগতের বাইরে বেরিয়ে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ড. পয়োধি ধর ও সঞ্চারি সিনহা ধর। উৎসবের আমেজ শুধু আনন্দেই সীমাবদ্ধ না রেখে, শিক্ষা ও সহমর্মিতার আলো ছড়িয়ে দিলেন তাঁরা। সীমান্তের ওই ছোট ছোট মুখগুলোর উজ্জ্বল হাসিই যেন বলে দিল, এটাই আসল সরস্বতী পুজো!

