সামশেরগঞ্জে এনকাউন্টারে মৃত্যু সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় অভিযুক্ত সামাউন শেখের।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় বড়সড় মোড়। ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল মামলায় অভিযুক্ত সামাউন শেখের। মঙ্গলবার বিকেলে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে সূত্রের খবর। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে অনুপনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে কী পরিস্থিতিতে গুলি চলেছিল, তা নিয়ে এখনও তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার অভিযুক্ত সামাউন শেখকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান সিআইডির আধিকারিকরা। সেই সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি। এরপরই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কীভাবে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং গুলি চালানোর পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ অগস্ট সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল নিখোঁজ হন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর তাঁর দেহের কিছু অংশ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে নেমে সামাউন শেখ-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, সুজিতকে খুনের পর তাঁর দেহ টুকরো করে ফিডার ক্যানেলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীকালে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। মামলার তদন্তের প্রেক্ষিতে তৎকালীন ফারাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিন এবং সামশেরগঞ্জ থানার তৎকালীন আইসি সুব্রত ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।

এবার তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত সামাউন শেখের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সামশেরগঞ্জে। কীভাবে গুলি চলল, সেই সময় ঠিক কী পরিস্থিতি ছিল এবং এই ঘটনার পর তদন্ত কোন পথে এগোবে—তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে এখন সিআইডি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্তকারী সংস্থার বিবৃতি সামনে এলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *