ভালোবাসা, মায়া-মমতা ও মানসিক শান্তির বার্তা, উল্টোডাঙা বিধান সংঘের পুজোয় শিল্পী কৃষাণু পালের ভাবনা ‘অমূর্ত’।
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অর্থ ও সম্পত্তির পিছনে ছুটে চলা মানুষের জীবনে মানসিক শান্তির গুরুত্ব কতটা, সেই ভাবনাকেই পুজোমণ্ডপে তুলে ধরছে উল্টোডাঙা বিধান সংঘ। দুর্গাপুজোর ৫৮তম বর্ষে তাদের এবারের ভাবনা ‘অমূর্ত’। শিল্পী কৃষাণু পালের শিল্পভাবনায় মণ্ডপে ফুটে উঠবে এমন কিছু অনুভূতি ও উপলব্ধি, যা চোখে দেখা যায় না, অথচ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
আধুনিক জীবনের ইঁদুরদৌড়ে অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং বাহ্যিক সাফল্য অর্জনের প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এই সম্পদগুলির কোনওটিই সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের সঙ্গে থেকে যায় তার অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং সম্পর্কের স্মৃতি। আর প্রকৃত তৃপ্তির অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে মানসিক শান্তি।
ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা, স্নেহ, মায়া-মমতা, সহানুভূতি ও আত্মিক বন্ধন—এই অনুভূতিগুলিকে চোখে দেখা যায় না, স্পর্শও করা যায় না। তবুও এগুলিই মানুষের জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এই অদৃশ্য অনুভূতি ও উপলব্ধির জগৎকে শিল্পের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরাই ‘অমূর্ত’ থিমের মূল ভাবনা।
শিল্পী কৃষাণু পাল বিমূর্ত শিল্পরীতিতে কাজ করতে ভালোবাসেন। তাঁর শিল্পভাবনায় মণ্ডপসজ্জা কেবল সৌন্দর্য প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, বরং দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার একটি ক্ষেত্র। তাই উল্টোডাঙা বিধান সংঘের এবারের মণ্ডপেও থাকবে ভাবনার অবকাশ—যেখানে দর্শক শুধু শিল্প দেখবেন না, বরং নিজের জীবন, সম্পর্ক এবং মানসিক শান্তির অর্থ নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ পাবেন।
কোলাহল ও চরম কর্মব্যস্ততার পরিচিত উল্টোডাঙার বুকে ‘অমূর্ত’ হয়ে উঠতে পারে এক অন্যরকম অনুভবের ঠিকানা। বাহ্যিক প্রাপ্তির বাইরে মানুষের অন্তরের সম্পদকে চিনে নেওয়ার আহ্বান জানাবে এই ভাবনা। সব মিলিয়ে, উল্টোডাঙা বিধান সংঘের ৫৮তম বর্ষের ‘অমূর্ত’ থিম দর্শকদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি মনে গভীর ছাপ ফেলবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।

