লালগড়-মেদিনীপুর রুটে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, পিড়াকাটায় অল্পের জন্য রক্ষা ২০-র বেশি যাত্রীর।
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সকালবেলায় যাত্রীবোঝাই বেসরকারি বাস উল্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিড়াকাটায়। লালগড় থেকে মেদিনীপুরগামী একটি বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নয়নজুলিতে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার জেরে বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় একাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে বাসে থাকা ২০-রও বেশি যাত্রী অল্পের জন্য বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে লালগড় থেকে যাত্রী নিয়ে মেদিনীপুরের দিকে যাচ্ছিল বেসরকারি বাসটি। পথে পিড়াকাটা এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা নয়নজুলিতে উল্টে যায় বাসটি। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। বাসের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশকর্মীরা। আহত যাত্রীদের বাস থেকে বের করে আনার পাশাপাশি তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনায় আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। বাসে থাকা কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, বাসটি খুব বেশি গতিতে চলছিল না। তাঁদের দাবি, বাসের স্টিয়ারিং কিংবা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই চালক বাসটির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও যাত্রীদের এই দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ঠিক কী কারণে চলন্ত বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়নজুলিতে উল্টে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সকালবেলায় ব্যস্ত সময়ে যাত্রীবোঝাই বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় পিড়াকাটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও বাসের যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। তবে একাধিক যাত্রীর আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন, বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই কি এই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

