এনকাউন্টার, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ, তৃণমূলকে একাধিক ইস্যুতে নিশানা।
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এনকাউন্টার বিতর্ক, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিতর্ক এবং দলীয় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হন।
এনকাউন্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলায় পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে ছিল। তাঁর দাবি, অপরাধ দমনে পুলিশকে কঠোর হতে হবে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, অপরাধী পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ আইনি সীমার মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীদের বিচারের সুযোগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এনকাউন্টার নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সবসময় সন্দেহ তৈরি করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না।
মুখ্যমন্ত্রীর একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আচরণ ও বক্তব্যে সংযম থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তোলেন।
কুণাল ঘোষের মন্তব্যের প্রসঙ্গেও দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যই দলের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে এক ছাত্র গ্রেফতারের প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, প্রতিবাদের ধরন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে, তবে সরকারকে মানুষের ক্ষোভ ও মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যগুলির বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

