দু’বার স্থগিত অনাস্থা ভোট, অবশেষে অপসারিত তুলসীহাটার সিপিএম প্রধান সোমা খাতুন।

হরিশ্চন্দ্রপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :- পরপর দু’বার অনাস্থা ভোটের দিন স্থগিত। দীর্ঘ প্রায় দু’মাস ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আইনি লড়াই। অবশেষে সব বাধা কাটিয়ে অনাস্থা ভোটে প্রধানের পদ খোয়ালেন হরিশ্চন্দ্রপুর–১ ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রধান সুমা খাতুন। বুধবার অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে তাঁকে অপসারণ করা হয়। এই ঘটনায় তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল সিপিএম। জানা গিয়েছে, ২৫ সদস্যের এই পঞ্চায়েতে প্রধানের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিলেন ১৫ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে সিপিএমের ৬ জন, বিজেপির ৬ জন, তৃণমূলের ২ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন সদস্য ছিলেন। বিক্ষুব্ধ শিবিরের অভিযোগ, প্রধান হিসেবে সুমা খাতুন পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনও সমন্বয় রেখে চলতেন না। এমনকী, প্রধানের পরিবর্তে তাঁর স্বামীই কার্যত পঞ্চায়েত পরিচালনা করতেন। পঞ্চায়েতের টেন্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, সব ক্ষেত্রেই প্রধান ও তাঁর স্বামী একক সিদ্ধান্ত নিতেন বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, পঞ্চায়েত পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অভাবই এই অনাস্থার মূল কারণ। অন্যদিকে, অনাস্থা প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে একাধিক পদক্ষেপ করেছিলেন প্রধান বলেও অভিযোগ বিক্ষুব্ধ সদস্যদের। তাঁদের দাবি, আটজন পঞ্চায়েত সদস্যের পদ খারিজের দাবিতে মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমা। কিন্তু সেই পদক্ষেপেও অনাস্থা প্রক্রিয়া আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। এর আগে দু’বার অনাস্থা ভোটের দিন নির্ধারিত হলেও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার অভাবে তা স্থগিত হয়ে যায় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। আইনি লড়াইয়ের পর বুধবার অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং অপসারিত হন প্রধান।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, প্রশাসনিক টানাপোড়েন এবং আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত প্রধানের চেয়ার হারালেন সোমা খাতুন। এবার তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান কে হন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *