FRU হাসপাতালের উদ্যোগ, অথচ বর্তমান পরিষেবা নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুরে।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— জেলার মধ্যে প্রথম হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালকে ফার্স্ট রেফারেল ইউনিট (FRU) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক সব্যসাচী চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা জনস্বাস্থ্য নার্সিং আধিকারিক তন্দ্রা চৌধুরী এবং হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক মহম্মদ আঞ্জুম পারভেজ আলম। হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ড-সহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তাঁরা। চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পরিকাঠামো ও বিভিন্ন রেজিস্টার খতিয়ে দেখেন। তবে FRU করার উদ্যোগের মাঝেই হাসপাতালের বেহাল পরিষেবা নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন রোগীর পরিজন ও বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা মেলে না। অধিকাংশ রোগীকেই অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতাল চত্বরেই চিকিৎসকদের টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগত চেম্বার চালানোর অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি বাউন্ডারি ওয়াল, পানীয় জল ও শৌচালয়ের বেহাল অবস্থা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র পেতেও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দাদের দাবি, সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, তাও এক ঘণ্টার জন্য শংসাপত্র দেওয়া হয়। বাইরে থেকে টাকার বিনিময়ে শংসাপত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শিশু ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধের জোগান এবং পরিষেবার উন্নতির দাবিতে এদিন স্বাস্থ্য আধিকারিকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন বাসিন্দারা। সব্যসাচী চক্রবর্তী জানান, FRU হলে ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিষেবা, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার, নবজাতকের চিকিৎসা, রক্ত সঞ্চালন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। তবে বাসিন্দাদের প্রশ্ন, উন্নত হাসপাতালের পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান পরিষেবার বেহাল দশা কবে বদলাবে?

