সুজিত মণ্ডল খুন ও দেহ টুকরো করে লোপাটের মামলায় অভিযুক্ত সামাউন শেখের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে।
মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গাইঘাটার পরে শমসেরগঞ্জ। এক দিনে জোড়া ‘এনকাউন্টার’। সুজিত মন্ডলের খুনের ঘটনায় ধৃত সামাউন শেখকে এনকাউন্টার করে নিকেশ করল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে যাওয়ার সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। তাতেই সামাউনের মৃত্যু হয়েছে।
ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন সুজিত মন্ডল। তিনি এলাকার বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুজিত পেশায় বিড়ি শ্রমিক। গত ২৮ অগস্ট সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার আট ঘণ্টা পরে শমসেরগঞ্জ থানায় নিখোঁজের মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সুজিত নিঁখোজ হননি। তিনি খুন হয়েছে। তার পরে দেহ টুকরো করে খালের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় সামাউন শেখ, তাজকিরা বিবি এবং জনি শেখ নামে তিন জনকে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।
সেই ঘটনা পরে শমসেরগঞ্জ থানার আইসিকে লাইনে ক্লোজ করা হয়। শোকজ করা হয়েছিল পুলিশ সুপারকেও। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। তার পর থেকে সিআইডি এই মামলার তদন্ত করছিল।
পুলিশ সূত্রের খবর, শমসেরগঞ্জ থানার পুরাতন ডাকবাংলো এলাকায় সুজিত মন্ডলকে যে ঘরে খুন করা হয়েছিল সেখানে মূল অভিযুক্ত সামাউন শেখকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পুননির্মান করতেই সামাউন শেখকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সামাউন শেখ। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। জখম অবস্থায় সামাউনকে জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, এ দিন ভোরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত যুবকের পুলিশের গুলিতে নিকেশ হয়েছে। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ সেরে ফেরার পথে পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। বাধা পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালায়। তাতেই গুলিবিদ্ধ হন প্রহ্লাদ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। সেই ঘটনায় এক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।

