দুর্যোগের আগেই ধান ঘরে তোলার তাড়া, গড়বেতা ও গোয়ালতোড়ে মাঠে ব্যস্ত কৃষকরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! ফসল বাঁচাতে মাঠে নেমে পড়েছেন চাষিরা। ধান নষ্ট হওয়ার ভয়ে আগেভাগেই ফসল কাটার হিড়িক পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা, গোয়ালতোড়-সহ বিভিন্ন এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ার আগেই পাকা ধান ঘরে তোলার মরিয়া চেষ্টা কৃষকদের।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-কে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান এবং সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কায় ফসলের ক্ষতি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তাঁদের আশঙ্কা, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে মাঠে থাকা পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই আর সময় নষ্ট করতে চাইছেন না তাঁরা।
মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা, গোয়ালতোড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেল সেই ছবিই। মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার কাজ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটছেন, আবার কেউ দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটাই লক্ষ্য, দুর্যোগ আছড়ে পড়ার আগেই যতটা সম্ভব পাকা ধান ঘরে তুলে নেওয়া।
স্থানীয় চাষিদের বক্তব্য, ধান চাষের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং বিপুল খরচ। সারা বছরের আশা-ভরসা এই ফসলকে ঘিরেই। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি জমির পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁদের। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই ধান কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, কৃষকদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, আবহাওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলা। কারণ, একবার মাঠে জল জমে গেলে কিংবা ঝোড়ো হাওয়ায় পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকদের। প্রকৃতির রোষ থেকে সারা বছরের পরিশ্রমে ফলানো ফসলকে বাঁচাতে চলছে শেষ মুহূর্তের চেষ্টা।
এখন নজর আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে। শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কতটা পড়ে এবং কৃষকদের ফসল কতটা সুরক্ষিত থাকে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জেলার চাষিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *