সীমান্তের ওপারে আজও অমলিন ২২৬ বছরের ঐতিহ্য, তিলাসন জমিদার বাড়ির পুজোয় পাঁচ রাউন্ড শূন্যে গুলি।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :—- ২২৫ বছরে পুরনো ঐতিহ্য আজও অমলিন। মালদহে, এবারও সীমান্তে কাঁটাতার পেরিয়ে ওপারে পুনরভা নদীতে ঘট ভরে শুরু হলো জমিদার বাড়ির দুর্গা পুজো। একই সঙ্গে রীতি মেনে বন্দুক থেকে শূন্যে ছোড়া হল পাঁচ রাউন্ড গুলি। এবার মালদহের তিলাসন জমিদার এস্টেট দুর্গাপুজো ২২৬ বছরে পড়ল। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ধারে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্য আর পরম্পরায় সাক্ষী রইলেন গ্রামবাসীরা।

মালদহে সিংহাবাদ তিলাসন জমিদারির বেশিরভাগ অংশই এখন বাংলাদেশে। দেশ বিভাগের ফলে তিন ভাগ অংশ চলে যায় বাংলাদেশে। কাঁটাতারের ঢিল ছোড়া দূরত্বে এখনও বহু ইতিহাসের সাক্ষী জমিদার বাড়ি।
প্রাচীন কাল থেকেই পুনর্ভবা নদীতে ঘট ভরে শুরু হতো দূর্গা পুজো। দেশ বিভাজনের পরে পুনর্ভবা নদী হয় ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। আরও পরে তৈরি হয় সীমান্তের কাঁটাতার। পুনর্ভবা নদী এখন কাঁটাতারের ওপারে।

প্রতিবছর সপ্তমীর সন্ধ্যায় বিএসএফের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সীমান্তের গেট খুলে পুরোহিত, ঢাকি আর জমিদার পরিবারের সদস্যরা কাঁটাতার পেরিয়ে পৌঁছন ওপারে। এবারও একইভাবে পুজোর ঘট ভরা হলো।

একসময় শূন্যে গুলি ছুঁড়ে প্রজাদের জানান দেওয়া হতো জমিদার বাড়ির দুর্গা পূজার শুরু হলো। এখনও ঘঠ ভড়া থেকে ঠাকুর দালান পৌঁছনো পর্যন্ত শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছোঁড়েন জমিদার পরিবারের বর্তমান নবম পুরুষ রাকেশ কুমার রায়।

এবারও নিয়ম-নীতির কোনও বদল হয়নি। পরম্পরা অক্ষুন্ন রেখে ঘট ভরা থেকে শূন্যে গুলি পরপর চলে নানান আচার।
জমিদার পরিবারের সদস্য রাকেশ কুমার রায় বলেন, এই ঐতিহ্য বহু পুরনো। একসময় পূর্বপুরুষ, ঠাকুরদা, বাবারা যা করেছেন। এখন আমি সেই ঐতিহ্যই রক্ষা করি। পুরনো দিনের মতোই আজও গ্রামবাসীকে কার্ড দিয়ে পূজোর নিমন্ত্রণ করা হয়। পূজোয় গ্রামবাসীদের ১৩ পদ রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও এখনও চালু রয়েছে। পুজোর সমস্ত খরচ বহন হয় জমিদার এস্টেট তহবিল থেকে। কোনওরকম চাঁদা বা সরকারি অনুদান নেওয়ার রীতি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *