অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ, খারুই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের।

তমলুক-পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না পাওয়া, গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এবং প্রধানের অনুপস্থিতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে। মঙ্গলবার সকাল থেকে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে বহু গ্রামবাসী গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। পরে পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আন্দোলন চালান তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খারুই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সেক সেরাজুল ইসলাম গত প্রায় এক মাস ধরে নিয়মিত পঞ্চায়েত অফিসে আসছেন না। ফলে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সরকারি কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নথি, বিভিন্ন শংসাপত্র, সরকারি প্রকল্পের আবেদনসহ একাধিক পরিষেবা পেতে বারবার অফিসে এসেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। প্রধানের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলেও তাঁদের দাবি।

বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা এখনও বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। তাঁদের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক মহিলাদেরই ওই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েত অফিসের সমস্ত কর্মীদের বাইরে বের করে দিয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে দেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতা মধুসূদন মণ্ডল ফোনে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিডিও সুজিৎ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফোনে বিডিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

বিডিও সুজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, “প্রধান মাঝে মাঝে পঞ্চায়েত অফিসে আসছেন, কিন্তু সেই সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর দেখা হচ্ছে না। সেই কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরবর্তীতে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। বিডিও ও পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দু’ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েত অফিসের তালা খুলে দেন। এরপর অফিসের কর্মীরা পুনরায় কাজে যোগ দিতে সক্ষম হন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে খারুই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সেক সেরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *