উমাচরণপুরে জমি-বিবাদে রক্তাক্ত হামলা, ভোজালি-বল্লমের কোপে সংকটজনক যুবক।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ফালাকাটা ব্লকের উমাচরণপুরে জমি মাপজোককে কেন্দ্র করে রবিবার চরম উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, ভোজালি, বল্লম, লাঠি-সোটা নিয়ে এক পরিবারের উপর নৃশংস হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ঘটনায় গুরুতর জখম এক যুবক বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও তিন সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উমাচরণপুরে রেশন ডিলার প্রহ্লাদ আগরওয়াল-এর জমির মাপজোক চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বহু মানুষ। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম-কে কেউ জিজ্ঞাসা করেন জমিটি কার। উত্তরে তিনি জানান, এটি ডিলার প্রহ্লাদ আগরওয়ালের জমি এবং তিনি আগে ওই জমিতে চাষ করতেন।
অভিযোগ, এই কথার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল মজিদ প্রধান-এর পরিবারের সদস্যরা শফিকুল ইসলামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন শফিকুল জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন এবং স্যালাইন চলছিল। সেই অবস্থাতেই তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
বাবাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন ছেলে উমর আহমেদ। অভিযোগ, তখনই সাইফুল আলম প্রধান ভোজালি দিয়ে উমরের উপর নৃশংস হামলা চালায়। তার মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। একই সময় আইনুল হক প্রধান বল্লম দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে উমরকে Falakata Super Speciality Hospital-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে Cooch Behar Government Medical College and Hospital-এ রেফার করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে North Bengal Medical College and Hospital-এ স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি।
এই হামলায় আহত হন শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মানজিনা খাতুন এবং ছেলে মিশকাত আহমেদ-ও।
ঘটনা নিয়ে ডিলার প্রহ্লাদ আগরওয়াল বলেন,
“আমার জমি মাপজোকের কাজ চলছিল। শফিকুল শুধু বলেছিল জমিটা আমার এবং সে আগে চাষ করত। এই কথাতেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিবাদে এর আগেও তার গাড়ির চালককে লাঠি-সোটা দিয়ে মারধর করা হয়েছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। অভিযোগ, সুযোগ পেলেই অন্যের জমি দখল, ভয় দেখানো এবং হামলা চালানো ছিল তাদের নিয়মিত কায়দা। আতঙ্কের কারণে অনেকেই এতদিন মুখ খুলতে পারেননি।
অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ প্রধান-এর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, তিনি জোরপূর্বক একটি ৬০ বছরের পুরনো পৈতৃক বাড়ি দখল করে নিয়েছেন।
প্রতিবেশী শ্যামল চন্দ্র সাহা-র অভিযোগ, তার পরিবারের বহু পুরনো বাড়িটি জবরদখল করা হয়েছে। শ্যামলবাবুর দাদা গোপাল চন্দ্র সাহা জানান,
“থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আমাদের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে।”
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন উমাচরণপুরের বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি তোলেন। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি—অভিযুক্ত পরিবারের প্রধান কার্যত একজন ‘জমি মাফিয়া’, যার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *