আষাঢ়ে জামাই ষষ্ঠী, দাম বাড়লেও কমেনি কেনাকাটার উৎসাহ।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– রাত পোহালেই জামাই ষষ্ঠী।জামাই ষষ্ঠী, সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসেই পালিত হয়। তবে এবারে ব্যতিক্রম—ষষ্ঠীপুজো পড়েছে আষাঢ় মাসে। আর সেই প্রভাব পড়েছে বাজারেও। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে ডালা, কুলো ও পাখার বাজারে কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেলেও পুজোর উপকরণ কিনতে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েনি শুক্রবার ।সকাল থেকেই পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। দুপুর গড়াতেই হাটে দেখা গেল মহিলাদের ভিড়। কেউ কিনছেন তালপাতার পাখা, কেউ বা বাঁশের তৈরি নানা ডিজাইনের হাতপাখা, ডালা কিংবা কুলো—সবই ষষ্ঠীপুজোর অপরিহার্য সামগ্রী।রাঙাভিটা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা গোস্বামী জানান, পরিবারের সন্তান-সন্ততিদের মঙ্গল কামনায় প্রতিবছরই তিনি ষষ্ঠীপুজো করেন। তাঁর কথায়, “পুজোর জন্য ডালা, কুলো, পাখা—এসব লাগবেই। শনিবার পুজো, তাই আজ হাটে এসে কিনে নিচ্ছি। তবে গতবারের তুলনায় এ বছর দাম অনেকটাই বেড়েছে।”একই সুর শোনা গেল তুলসীডাঙ্গা থেকে আসা গৃহবধূ নমিতা সাহার গলায়। তিনি বলেন, “ডালা, কুলো আর পাখার সেট এবার ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম অনেক বেশি, কিন্তু পুজো তো করতেই হবে, তাই কিনতেই হচ্ছে।”
বিক্রেতাদেরও একই আক্ষেপ। ব্যবসায়ী কার্তিক চন্দ্র দাসের কথায়, “সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে ষষ্ঠীপুজো হয়, তখন চাহিদা বেশি থাকে। এবারে আষাঢ়ে পড়ায় চাহিদা কিছুটা কমেছে। তার উপর বাঁশ, তালপাতা-সহ সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তবুও মানুষ পুজোর সামগ্রী কিনছেন।”
দাম বাড়ুক বা বাজার মন্দা থাকুক—বাংলার ঘরের আচার-অনুষ্ঠানের টান যে এখনও অটুট, গাজোলের হাটের এই চিত্র যেন সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করল।

