নবান্ন অভিযান বেআইনি, আদালতের নির্দেশ মানতেই হবে: কড়া বার্তা প্রশাসনের।

ভবানী ভবন, কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: – প্রস্তাবিত নবান্ন অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ানোর আগে কড়া অবস্থান জানিয়ে দিল রাজ্য প্রশাসন। আজ কলকাতার ভবানী ভবনে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশাসনের শীর্ষ পুলিশ কর্তারা জানিয়ে দেন, নবান্ন সংলগ্ন এলাকায় কোনো জমায়েত, মিছিল বা সভা সম্পূর্ণ বেআইনি, এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই সমস্ত কর্মসূচি করতে হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:

সুপ্রতীম সরকার – এডিজি, দক্ষিণবঙ্গ

জাভেদ শামীম – এডিজি, ল অ্যান্ড অর্ডার

মনোজ ভার্মা – পুলিশ কমিশনার, কলকাতা

প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী – পুলিশ কমিশনার, হাওড়া

কোনো সংগঠন আবেদন করেনি: প্রশাসনের দাবি

পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নবান্ন অভিযানের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন কোনো আবেদনপত্র জমা দেয়নি। এমনকি গত বছর যেসব ছাত্র সংগঠন নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবছর তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।

আদালতের নির্দেশ স্পষ্ট

পুলিশ জানায়, ইতিমধ্যেই এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুটি মামলা কলকাতা হাইকোর্টে রুজু হয়েছে – একটি ব্যবসায়ীদের সংগঠনের তরফে, অন্যটি পিআইএল (PIL)। ডিভিশন বেঞ্চ থেকে রায় এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে:

প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার

হিংসার আশ্রয় নেওয়া যাবে না

আইন মেনে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করে কর্মসূচি পালন করতে হবে

নবান্ন এলাকায় জমায়েত বেআইনি: বিকল্প জায়গা নির্ধারণ

পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, নবান্ন সংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা, এবং হাইকোর্টের নির্দেশে সেখানে কোনো জমায়েত বা মিছিল বেআইনি। বিকল্প হিসেবে প্রশাসনের তরফে দুটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে:

হাওড়ার সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ড (হাওড়া সিপি-এর অধীনে)

কলকাতার আর আর অ্যাভিনিউ (রাসবিহারী অ্যাভিনিউ) (কলকাতা পুলিশের অধীনে)

এই দুই জায়গায় শান্তিপূর্ণ জমায়েত করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অভয় মঞ্চ এবং কালীঘাট অভিযান নিয়েও সতর্ক বার্তা

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, “অভয় মঞ্চ থেকে কালীঘাট অভিযান” নামক কর্মসূচির অনুমতি প্রশাসন দেয়নি। বিকল্প জায়গা হিসেবে কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার ফাইভ পয়েন্ট পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাও আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশের উপর নির্ভর করছে।

আইন অমান্য হলে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে

ইন্টেলিজেন্স ইনপুটের ভিত্তিতে কয়েকজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে —
“যদি কেউ আইন অমান্য করে, বা হিংসাত্মক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।”

হাওড়া সিপি-র বক্তব্য

হাওড়া পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী জানান:
“গতবার নবান্ন অভিযানের সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে কন্টেনার বসাতে হয়েছিল। এবারও যেখানেই প্রয়োজন হবে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সমাপনী বার্তা: শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান

পুলিশ প্রশাসন বারবার এই বার্তা দিয়েছে, “প্রতিবাদ হোক শান্তিপূর্ণ। আইনের গন্ডিতে থেকে মতপ্রকাশ করুন। ইতিহাস বলে, যেকোনো নবান্ন অভিযান ঘিরে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এবার সেই পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *