হরিশ্চন্দ্রপুরে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, ধান রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ স্থানীয়দের।
মালদা,হরিশ্চন্দ্রপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ১৯ জুলাই : —রাস্তা না চষা জমি! না দেখলে বোঝা দুস্কর। রাস্তার দাবিতে কাদা জলে ধানের চারা রোপণ করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কতোল গ্রামে। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে পাকা রাস্তা না হলে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি গ্রামবাসীর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,কতোল বেলিয়া দিঘি থেকে শুরু করে জনমদল সিংসার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা বহু বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।পুরোটাই কাঁচা। বর্ষার সময় এই রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হয়ে যায়। চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় রাস্তা সংলগ্ন হাজার হাজার গ্রামবাসীকে। বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল গাড়ি ঢুকতে পারে না। খাটিয়া তে করে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতিকে দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। জন প্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও রাস্তাটি পাকা করার জন্য কেউই ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ সানাউল্লাহ,মহম্মদ মিজানুর ও মহবুদ আলমরা বলেন,এই রাস্তা দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। রাস্তায় বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এক হাঁটু কাদা ভেঙ্গে রাস্তা পারাপার করতে হয়।মাঠের ফসল নিয়ে আসতে পারি না।অনেকেই পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন। এছাড়া কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পর্যন্ত রাস্তা হয়নি। তাই এই বিক্ষোভ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাস্তা না হলে ভোট বয়কট করব। স্থানীয় সিপিএম এর পঞ্চায়েত সদস্য আসপাক হোসেন ও নুর নেহার বিবির স্বামী আব্দুল মান্নান বলেন,
এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য
পঞ্চায়েত সদস্যরা সামান্য পরিমাণ অর্থ পাই। সেই টাকা দিয়ে এতো বড় রাস্তা করা সম্ভব নয়। জেলা পরিষদের সদস্য মার্জিনা খাতুন বলেন,পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি ধরা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।আগামী বিধানসভার আগে রাস্তার কাজ হয়ে যাবে।

