বালুরঘাটের কুমোরটুলিগুলিতে এখন এক অন্য দৃশ্য- মাটি, খড়, রঙ, তুলিতে গড়া চলছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

দক্ষিন দিনাজপুর, বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা :-আর হাতে মাত্র দু’মাস। তার পরেই ঢাকের বাদ্যিতে শুরু হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব—শারদীয়া দুর্গাপূজা। শহর থেকে জেলা, সর্বত্র এখন সাজো সাজো রব। সেই উৎসবের আঁচ পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটেও। ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিমা গঠন ও গহনা প্রস্তুতির কাজ। মৃৎশিল্পী থেকে গহনাশিল্পী—সকলেই দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে। বালুরঘাটের কুমোরটুলিগুলিতে এখন এক অন্য দৃশ্য। মাটি, খড়, রঙ, তুলিতে গড়া চলছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। একজন বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী পাপাই পাল বলেন, “সময় খুব কম। হাতে গোনা দিন। তাই এখন সকাল-সন্ধ্যা নয়, বলতে গেলে রাত দিন মিলিয়ে কাজ চলছে। একটার পর একটা অর্ডার, প্রতিমা তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে মণ্ডপে।” তবে শুধু প্রতিমা তৈরি নয়, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে গহনার কাজও। দেবী দুর্গার রূপকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে গহনা এক বড় ভূমিকা নেয়, আর সেই কাজে এখন ব্যস্ত দক্ষিণ দিনাজপুরের বিশিষ্ট গহনাশিল্পী দেবজ্যোতি মোহরা। বালুরঘাটের একটি গহনা তৈরির কারখানার কর্তা জানান, “এবার আমাদের তৈরি গহনা কেবল জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গহনা কলকাতা ও রাজ্যের বাইরেও পাঠানো হয়েছে। এমনকি কিছু গহনা বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে।”
তাঁর কথায়, “দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গহনা এবার নজর কাড়বে বলে আশা করছি। নতুন ডিজাইন, নতুন ভাবনা—সব মিলিয়ে এবারের পূজোয় চমক থাকছেই।”
তথ্য বলছে, জেলার একাধিক পূজামণ্ডপে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে প্রতিমার গহনা। এখনও চলছে বাকি কাজ। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা অর্ডার মেটাতে এখন রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। কারখানায় ভিড় কম হলেও, কাজে কিন্তু এতটুকু ফাঁক নেই। সব শিল্পীই বদ্ধপরিকর, সময়ের মধ্যে গুণমান বজায় রেখে কাজ শেষ করতেই হবে। মণ্ডপসজ্জা নিয়েও উৎসাহ তুঙ্গে। মৃৎশিল্পীদের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বালুরঘাটের পূজাগুলো অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হবে। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি থিম, মণ্ডপ, গহনা—সব কিছুতেই থাকছে নতুনত্বের ছোঁয়া।
বালুরঘাটের শিল্পীদের একটাই কথা—“আমরা শুধু প্রতিমা তৈরি করছি না, আমাদের হাতে তৈরি হচ্ছে আবেগ, শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস। তাই এই কাজ আমাদের কাছে শুধু পেশা নয়, এক মহান দায়িত্ব।”
এবারের দুর্গাপুজো নিয়ে তাই প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। শিল্পীদের হাত ধরে প্রান্তিক জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটও প্রস্তুত হয়ে উঠছে রাজ্যের বুকে এক নতুন চমক হয়ে উঠতে। এখন শুধু অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির—মায়ের আগমনের। বালুরঘাট থেকে আবির রঞ্জন দাসের রিপোর্ট খবরে খবর।

বাইট: পাপাই পাল (মৃৎ শিল্পী)

দেবজ্যোতি মহড়া (গহনা প্রস্তুতকারক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *