লালগোলার প্রাচীন লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লালগোলা, মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা: – লালগোলার প্রাচীন লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতের কোনো এক সময় দুষ্কৃতীরা মন্দিরের মূল গেটের দুটি তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দানবাক্স থেকে টাকা-পয়সা লুঠ করে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকালে মন্দিরের পুরোহিত গিরিধারী পাঠক প্রতিদিনের মতো মন্দির খুলতে এসে লক্ষ্য করেন, গেটের তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে এবং দানবাক্সটি স্থানচ্যুত। খোলার পর দেখা যায়, দানবাক্সে থাকা সমস্ত অর্থ চুরি হয়ে গেছে। কেবল কয়েকটি এক টাকার কয়েন বাক্সের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ ভিড় জমান মন্দির চত্বরে। মন্দির কমিটির সদস্য স্বপন কুমার রায়চৌধুরী বলেন, “মন্দিরটি লালগোলা থানার একেবারে কাছেই। তবুও এই ধরনের চুরি হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশে খবর দিয়েছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।”
খবর পেয়ে লালগোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুরোহিতের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মন্দির তালাবদ্ধ করে বাড়ি চলে যান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে, রাতের গভীরে পরিকল্পনা মাফিক চুরি হয়েছে।
পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত থেকে টানা তল্লাশির পর অবশেষে বুধবার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরির ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বলেন, “পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তারা সত্যিই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে। মাত্র একদিনের মধ্যেই অভিযুক্তকে ধরে ফেলেছে, এজন্য লালগোলা থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকত এবং তাকে জেরা করার সময় সে চুরির দায় স্বীকার করেছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধমূলক চক্র যুক্ত আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, মন্দিরে পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি এবং রাতের পাহারার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

