সাঁকরাইলে রোগী মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের।
হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- হাওড়ার সাঁকরাইলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়েছে ৩১ বছর বয়সী গোপাল পোদ্দার-এর।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ভোরে সাঁকরাইল হাজী এসটি মল্লিক হাসপাতাল-এ। পেটে ব্যথার অভিযোগ নিয়ে সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত বানিপুর ২ পঞ্চায়েতের শীতলাতলা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোদ্দারকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে আনার পর দীর্ঘক্ষণ কোনও চিকিৎসক রোগীকে দেখতে আসেননি। জরুরি বিভাগে এক কর্মী প্রাথমিকভাবে কিছু ওষুধ দেন। পরে চিকিৎসক এসে পরপর তিনটি ইনজেকশন দেওয়ার পরই অল্প সময়ের মধ্যে গোপালের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ।
মৃতের ভাই সুরেশ পোদ্দারের অভিযোগ, “প্রায় এক ঘণ্টা পর চিকিৎসক আসেন এবং কোনওরকম পরীক্ষা না করেই ইনজেকশন দেন। এরপরই দাদার মৃত্যু হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের রেজিস্টারে ওষুধের নাম কাটাকাটি করে বদল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, চিকিৎসক সামান্য দেরিতে এলেও রোগীকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। স্টাফ নার্স ইনজেকশন দেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোগীর মৃত্যু হয়। রেজিস্টারে ওষুধের নাম সংশোধনের বিষয়টিও স্বীকার করে তিনি বলেন, ভুলবশত অন্য ওষুধের নাম লেখা হয়েছিল, পরে তা ঠিক করা হয়।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা।
এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

