লাচ্ছা-সিমুই উৎসবে মিলল ধর্মের সেতুবন্ধন।
সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুটে ঐতিহ্যবাহী লাচ্ছা – সিমুই উৎসব। অভিজিৎ হাজরা,পাঁচলা হাওড়া :- ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে পবিত্র ইদলফেতর উৎসব উপলক্ষে ৫ ম বার্ষিকী লাচ্ছা – সিমুই উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত হল গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর বিধানসভার গাববেড়িয়া চাইল্ডহুড কে জি স্কুলে। এই লাচ্ছা – সিমুই উৎসব প্রসঙ্গে সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতি – র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মুজিবুর রহমান মল্লিক দাবি করে বলেন, ” আম উৎসব,ইলিশ উৎসব, পিঠে পুলি উৎসব,নবান্ন উৎসব বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হলেও লাচ্ছা – সিমুই উৎসব কোথাও হয় না। পৃথিবীর ইতিহাসে এই লাচ্ছা – সিমুই উৎসব আমরাই পালন করে থাকি। এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকবৃন্দ, লেখক – সাহিত্যিক,কবি,বাচিক শিল্পী,অংকন শিল্পী, সংবাদপত্র সংগ্ৰাহক, নৃত্য – সংগীত শিল্পী,নাট্য ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, শিক্ষক, গবেষক, সমাজকর্মী, সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ববৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু – মুসলিম – খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতি – নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ। উপস্থিত সকল অতিথি ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের এবং প্রত্যেক লাচ্ছা – সিমুই শিল্পীকে স্মারক – উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এই বছর লাচ্ছা – সিমুই উৎসবে বিভিন্ন রকমের লাচ্ছা – সিমুই প্রদশর্নীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদশর্নীতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন জন তাদের হাতে তৈরি লাচ্ছা – সিমুই প্রদর্শন করেন এবং উপস্থিত অতিথি – অভ্যাগতদের এবং উপস্থিত সকলকে সে গুলি খাওয়ার জন্য পরিবেশন করেন।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাদশাহী সিমুই,জবদানা সিমুই, জর্দ্দা সিমুই,চিড়ের পোলাও, পোলাও সিমুই, শুকনো সিমুই, গড়গড়া সিমুই,নবাবী সিমুই, দুধের সিমুই,স্পাইসি (ঝাল ) সিমুই।এগুলি প্রদশর্ন করেন যথাক্রমে সিদ্দিকা মল্লিক, জাহানারা বেগম,জাবিদ মল্লিক, সেকেন্দার মল্লিক,আবিকা মল্লিক, রাবিয়া বেগম, মিনাক্ষী মল্লিক, রেশমা বেগম,রীণা আঢ্য,আনিসা পারভিন। ৫ ম বার্ষিকী লাচ্ছা – সিমুই উৎসবের মূল উদ্যোক্তা সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মুজিবুর রহমান মল্লিক বলেন, “সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন – কে অটুট রাখতে পবিত্র ইদলফেতর উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী লাচ্ছা – সিমুই উৎসব ২০২২ সালে সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতি সূচনা করেছে। ইদলফেতর এর পর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংস্কৃতির মিলন উৎসব লাচ্ছা – সিমুই উৎসব। সম্প্রতির ভারতবর্ষে আমরা সকলে হাজার হাজার বছর ধরে একসাথে বসবাস করে আসছি । যে যার মত আমরা ধর্ম পালন করি, উৎসবে সকলে একসঙ্গে মিলিত হই।সে হোক বসন্ত উৎসব,রাখি বন্ধন উৎসব,দোল উৎসব, বিভিন্ন পূজা – পার্বন বা ইদলফেতর,খ্রীষ্টমাস। ধর্মীয় উৎসবের সাথে সূচনা হয়েছে ইলিশ উৎসব,আম উৎসব,পলাশ উৎসব,বসন্ত উৎসব, মাটি উৎসব,খাল – বিল উৎসব প্রভৃতি। এক এক মনিষী বা সমাজ সংস্কারক এক একটি উৎসবের সূচনা করেছে।সবাই মিলনের কথা বলেছেন।যা একে অপরের মধ্যে মিলন বা মেলবন্ধন ঘটানোর জন্যই বিভিন্ন উৎসবের সূচনা করেছে। ইদলফেতর এর পর হিন্দু – মুসলিম – খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির মিলন উৎসব। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের লাচ্ছা – সিমুই রন্ধন করা হয় এবং সমবেত অতিথি, বন্ধু - বান্ধব , বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ভাগ করে খাওয়া হয়।এর সাথে চলতে থাকে বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার্থে সুস্থ সংস্কৃতির অঙ্গনে নাচ, গান, কবিতা পাঠ – আবৃত্তি। এই উৎসবে যেমন থাকে পুরানো দিনের হাতে তৈরি জবদানা সিমুই, গড়গড়া সিমুই । তেমনি থাকে আধুনিক মেশিনে তৈরি বিভিন্ন ধরনের লাচ্ছা – সিমুই। বাংলার সিমুই ছাড়া বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ধরনের লাচ্ছা – সিমুই এর আয়োজন করা হয়। সম্প্রীতির ভারতবর্ষে কবিগুরুর কথায় ” নানা ভাষা নানা মত, নানা পরিধান।বিবিধের মাঝে দেখো মিলন ও মহান ” ।কাজী নজরুল ইসলামের ” মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু – মুসলমান। মুসলিম তার নয়ন মণি , হিন্দু তাহার প্রাণ ” । কবিগুরু এবং নজরুল ইসলামের এই বাণী কে পাথেয় করেই সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির অটুট বন্ধন রক্ষার্থে আমাদের এই লাচ্ছা - সিমুই উৎসব ” । উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উৎসব এর প্রাসঙ্গিকতা প্রসঙ্গে সুচিন্তিত ও বাস্তবিক বক্তব্য রাখেন। এই উৎসব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ পরিবেশিত হয়। এই লাচ্ছা – সিমুই উৎসবে হিন্দু – মুসলিম – খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জানোজোয়র প্রমাণ করল এই উৎসবের সফলতা। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মুজিবুর রহমান মল্লিক ও শেখ মুজিবুর রহমান।

