মন্থার প্রভাব কাটিয়ে বিকল্প ফসলে জোর, জেলায় বাড়ছে ভূট্টা চাষ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- ধান কাটতে দেরি! সর্ষে বা সরিষার বিকল্প ভূট্টা চাষে এবার আগ্রহী জেলার কৃষকরা। যান্ত্রিক সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে এই চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে জেলা কৃষি দপ্তর।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় অন্তত ১ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর আমন এবং ৮০ হাজার হেক্টরের মত জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আনাজ চাষ চলে। সরিষা চাষ হয় অন্তত ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে। গম ৪০ হাজার হেক্টর এবং পাট চাষ হয় অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে। এছাড়া মুসুর ডাল, আখ, সূর্যমুখী চাষও হয় বেশ কিছু এলাকায়। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে জেলায় রয়েছে অন্তত ৩ লক্ষ চাষি। কিন্ত লাভজনক ভূট্টা চাষ নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়না এজেলার আটটি ব্লকের কৃষকদের। হরিরামপুর সহ বাকি ব্লকে সামান্য পরিমান ভূট্টা চাষ হয়ে থাকে। কিন্ত এবার একপ্রকার বাধ্য হয়েই ভূট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা। কেননা, গত ২০২৫ এর নভেম্বর-ডিসেম্বরে মন্থার জেরে কিছু এলাকায় আবহাওয়া বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছিল। ধান পাকলেও কাটতে পারেননি কৃষকরা। অথচ, নভেম্বর মাসে ধান কেটে ঘরে তোলা এবং সরিষা আবাদ শুরু করার নিয়ম। কিন্ত তা না হওয়ায় সরিষা চাষে দেরি হয়। উপায়হীন চাষিরা বিকল্প হিসেবে ভুট্টা আবাদেই জোর দেন। কার্যত সাঁপে-বর হয়। কেননা, জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক বিঘা জমিতে ১৪-১৫ ক্যুইন্টাল ভুট্টা উৎপাদন হয়ে থাকে। যেখানে শুধু আর্থিক লাভ হয় ৬-৭ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি আধিকারিক অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবছর ভূট্টা চাষ অনেকটা বেড়েছে। মন্থার জেরে ধান কাটতে দেরি হয়। ফলে সময়মত সরিষা চাষ করা যায়নি। সেক্ষেত্রে ভূট্টাকেই বিকল্প হিসেবে চাষ করছেন চাষিরা। আমরা বহুদিন ধরেই ভুট্টা চাষে চাষিদের আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা জারি রেখেছিলাম। সুতারাং বিকল্প হিসেবে এই চাষের কথা আগে মাথায় আসে চাষিদের। ররিখন্ডে এই চাষে ফলনও বেশি। হাইব্রিড চারা দিয়েই আবাদ করা হচ্ছে জমিতে। হরিরামপুরে সবচেয়ে বেশি হলেও, অনান্য ব্লকেও ভূট্টা চাষ বেড়েছে। আর্থিক মুনাফা অনেক বেশি হওয়ায় আগামীতে এই চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।।

