অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে উত্তাল মানিকনগর চড়ে, ‘জমি রক্ষা কমিটি’ গড়ে প্রতিবাদ কৃষক-গ্রামবাসীদের।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কৃষকদের তৈরি রাস্তা ভাঙতে পারে ইটভাটার ট্রাক্টরে, মানিকনগর চড়ে প্রতিবাদে একজোট কৃষক গ্রামবাসী। পূর্ব বর্ধমান লাগোয়া নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের মানিকনগর চড়ে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে এবার একজোট হলেন কৃষক ও গ্রামবাসীরা। সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে প্রায় এক বছর আগে নিজেদের শ্রমে চলাচলের উপযোগী একটি কাঁচা রাস্তা তৈরি করেছিলেন এলাকাবাসী। ভোটের সময় স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে বাস্তবে কোনও উন্নয়ন না হওয়ায় নিজেদের সমস্যার সমাধানে নিজেরাই উদ্যোগ নেন তারা। ব্রজ কিশোর গোস্বামী কথা দেন ওই রাস্তা উন্নয়নে মিলবে সরকারি সহযোগিতা।
জানা যায়, মানিকনগর চড়ে ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচটি ইটভাটা রয়েছে। ওই ইটভাটাগুলোর জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাক্টর ও লরি যাতায়াত করে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে তবে পুরোপুরি কাজ সমাপ্ত না হলেও আপাতত চলাচলের উপযোগী ভাটা খুলতে যাওয়া অত্যন্ত সহজ এই এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে আগামীতে অত্যাচার বাড়তে পারে মাটি মাফিয়া দের কারণ যে মাটির দাম ৩০০ টাকা প্রতি ট্রাক্টর সেখানে ভাটায় দিলে মেলে ১০০০ টাকা স্বভাবতই। মাটি দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি স্থানীয় মাটি মাফিয়াদের। কৃষকদের আশঙ্কা অনুযায়ী ভারী যানবাহনের চলাচলের ফলে গ্রামবাসীদের কষ্ট করে তৈরি করা রাস্তা আবারো পড়তে পারে ভাঙনের মুখে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে
এছাড়াও ইট তৈরির জন্য কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে। এজন্য কৃষকরা বি এল আর ওর কাছেও বিষয়টি সজাগ দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারন এর ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও পড়ছে বিরূপ প্রভাব। চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃষিকাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বহু কৃষক।
এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা মিলিত হয়ে ‘জমি রক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেছেন। এই কমিটির উদ্যোগে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ আন্দোলন। সম্প্রতি সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরাও। তাদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবৈধ মাটি কাটায় রাশ টানা হোক এবং রাস্তাটিকে পাকাপাকিভাবে নির্মাণ করা হোক।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে তাদের জীবিকা ও পরিবেশ ধ্বংস করা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *