চুপি কাষ্ঠশালী ছেড়ে ছাড়ি গঙ্গায় পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়, বদলে গেল পূর্বস্থলীর চিত্র।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কিছু মানুষের দাপাদাপির কারণে প্রায় কয়েক বছর পর স্থান বদলাল কালনার পূর্বস্থলীর অধিকাংশ পরিযায়ী পাখির দল,
এইবার ছাড়ি গঙ্গায় নতুন ঠিকানায় আরও নিরাপদ আবাস গড়ে তুললো,
প্রায় দু’দশক পর পূর্বস্থলীর ছাড়ি গঙ্গায় আসা পরিযায়ী পাখিদের বড় অংশ তাদের আবাসস্থল পরিবর্তন করেছে। পূর্বস্থলীর চুপি কাষ্ঠশালীর পরিবেশে পরিবর্তন ও বাড়তি পর্যটক চাপের কারণে এবার তারা তুলনামূলক শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ঘাঁটি গেড়েছে পূর্বস্থলী থানার ঘাট সংলগ্ন ছাড়ি গঙ্গায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় তিন বছর ধরে প্রায় ৭০ শতাংশ পরিযায়ী পাখি কাষ্ঠশালীর ঘাট ছেড়ে নবপল্লী ঘাট, থানার ঘাট ও টালিভাঁটা ঘাট, পুরাতন বাজার সংলগ্ন ছাড়ি গঙ্গার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেছে। এই এলাকায় নৌকা বোঝাই পর্যটকদের দাপাদাপি তুলনামূলক কম থাকায় নির্জন ও নিরিবিলি পরিবেশে সহজেই মানিয়ে নিয়েছে পাখিরা।
চুপি কাষ্ঠশালীর ঘাট থেকে ছাড়ি গঙ্গায় পূর্বস্থলী থানার ঘাট বা নবপল্লীর ঘাটের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ছ’ কিলোমিটার। বর্তমানে পরিযায়ী পাখি দেখতে চাইলে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হল নবপল্লীর বাঁশের ব্রিজ ঘাট। এখান থেকেই অল্প সময়ের মধ্যে চোখে পড়বে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।
স্থানীয় স্বল্পসংখ্যক মৎস্যজীবীরা অল্প খরচে নৌকাভ্রমণের ব্যবস্থা করছেন। ঘণ্টা দেড়েকের জন্য প্রায় ১৫০ টাকা দিলেই নৌকার মাঝিরা পর্যটকদের অধিকাংশ পরিযায়ী পাখির দর্শন করিয়ে দিচ্ছেন। এখানে নেই দামি এসএলআর ক্যামেরা নিয়ে বহু নৌকার ভিড় বা কোলাহল—ফলে শান্ত পরিবেশে পাখিরাও নির্ভয়ে বিচরণ করছে।
হাওড়া–কাটোয়া রেলপথে পূর্বস্থলী রেলস্টেশন থেকে এই নতুন গন্তব্যস্থলের দূরত্ব পায়ে হেঁটে মাত্র ১০ মিনিট। রেলস্টেশন থেকে নবপল্লীর ঘাট বা ‘ভাইরাল বাঁশের ব্রিজ ঘাট’ বললেই স্থানীয়রা পথ দেখিয়ে দেবেন।
কীভাবে জানা গেল এই গোপন ঠিকানা?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ভাইরাল বাঁশের ব্রিজ দেখতে আসা কয়েকজন মানুষের নজরে পড়ে ছাড়ি গঙ্গায় কিচিরমিচির করতে থাকা পরিযায়ী পাখিদের দল। পরে কয়েকজন নৌকায় গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়ে। গত দু’সপ্তাহ ধরে বহু পর্যটক পরিযায়ী পাখি দেখতে চুপি কাষ্ঠশালী না গিয়ে সরাসরি নবপল্লী ও থানার ঘাট এলাকায় আসছেন এবং অল্প সময়েই উপভোগ করছেন হাজার হাজার পাখির অপূর্ব দৃশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *