মেক্সিকোর এজটেকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি-পরবর্তী ডিটেক ডিগ্রি অর্জন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রাণতোষ কুমার পালের।
রায়গঞ্জ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ডিএসসি-পরবর্তী ডিটেক (Doctor of Technology) ডিগ্রি অর্জন করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডঃ প্রাণতোষ কুমার পাল উত্তর আমেরিকার মেক্সিকোর এজটেকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । এই সাফল্যে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, গবেষক, সহকর্মী থেকে শুরু করে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা ব্যাপক খুশি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে তিনি ডক্টর আগুস্টিনিউয়া ইন্টারন্যাশনাল পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের মনোনয়নপত্র পান। এই ফেলোশিপের অংশ হিসেবে ২০২২ সালে তিনি ডক্টর অফ সায়েন্স (DSc) ইন ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। এই ইন্টারন্যাশনাল পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সাধারণ পোস্ট-ডক্টরাল প্রোগ্রামের মতো কেবল একটি প্রকল্পে কাজ করার সুযোগই নয়, বরং গবেষণালব্ধ থিসিস জমা দিয়ে উচ্চতর পোস্ট-ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য আবেদন করার সুযোগও থাকে। ডঃ পাল জানান, ২০২২ সালে ডিএসসি ডিগ্রি অর্জনের সময় তিনি পিএইচডি-পরবর্তী ৭৫টি গবেষণাপত্রকে একত্রিত করে থিসিস হিসেবে উপস্থাপন করেন। ডিএসসি ডিগ্রি লাভের পর তিনি ডিএসসি-ডিটেক ইন্টিগ্রেটেড প্রোগ্রামের জন্য পুনরায় আবেদন করেন। তাঁর ডিটেক গবেষণার বিষয় ছিল ‘এগ্রিকালচার ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’। ৫০টি গবেষণাপত্রকে একত্রিত করে তিনি এই ডিটেক থিসিসটি গত বছর জমা দেন এবং অতি সম্প্রতি মেক্সিকোর এজটেকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডক্টর অফ টেকনোলজি (DTech) ডিগ্রি লাভ করেন। তার বেশিরভাগ গবেষণা পত্র গুলি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা পাবলিশার যেমন : স্প্রিঙ্গার, টেলার এন্ড ফ্রান্সিস, বেন্থম সাইন্স, ইন্ডার সাইন্স ইত্যাদি তে প্রকাশিত হয়েছে।
ডঃ প্রাণতোষ কুমার পাল জানান, সাধারণত ডিটেক প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ ফি-নির্ভর এবং এতে ভারতীয় মুদ্রায় বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তবে যেহেতু তিনি ইন্টারন্যাশনাল পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ এর আওতাভুক্ত ছিলেন, তাই এনরোলমেন্ট ফি, অ্যাপ্লিকেশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, কোর্সওয়ার্ক ফি, থিসিস সাবমিশন ফি সহ ডিগ্রি সংক্রান্ত সমস্ত ধরনের ফি সম্পূর্ণভাবে মুকুব করা হয়। অতি সম্প্রতি এজটেকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর হাতে স্মারক, শংসাপত্র এবং প্রয়োজনীয় সকল নথি তুলে দেন। উল্লেখ্য, ডিটেক একটি পোস্ট-ডক্টরাল ডিগ্রি, যা ডক্টর অফ সায়েন্স (DSc) এবং ডক্টর অফ লিটারেচার (DLitt)-এর সমতুল্য হিসেবে স্বীকৃত। প্রসঙ্গত, তাঁর ডিএসসি ডিগ্রির মূল বিষয় ছিল ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ডিটেক গবেষণার বিষয় ছিল এগ্রিকালচার ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল— “Agricultural Information Science and Technology: The path for Sustainable & Smart Agricultural Systems”
ডঃ পাল জানান, তাঁর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রির যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে আইআইইএসটি শিবপুর থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে। এছাড়াও তার গবেষণা ভিত্তিক ডিগ্ৰীর ঝুলিতে রয়েছে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে এমটেক বাই রিসার্চ ডিগ্রি, ইনফরমেশন অ্যাসিওরেন্স ও আইটি ম্যানেজমেন্টে এমএস বাই রিসার্চ ডিগ্রি, পাশাপাশি এনভায়রনমেন্টাল ইনফরমেটিক্স পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম, ডিএসসির মতো একাধিক সম্মানজনক ডিগ্রি। ডঃ প্রাণতোষ কুমার পাল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের ভূমিপুত্র। তিনি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্টিস্ট পদে নিযুক্ত। ইনফরমেশন সায়েন্স ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত ও নির্বাচিত হয়েছেন।
২০২০ সালে আমেরিকার লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত লোগোস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনারারি প্রফেসর পদেও যুক্ত আছেন। এছাড়াও শিক্ষা, গবেষণা ও ইনফরমেশন সায়েন্সে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ম্যাঙ্গালোরের শ্রীনিবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ প্রোগ্রাম ও রিসার্চ প্ল্যানিং-এর চিফ অ্যাডভাইজার, হায়দ্রাবাদের চৈতন্য বিশবিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিএসর অনারারি সেক্রেটারি হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
ডঃ পাল এর লিখিত গবেষণা পত্র ও বুক চ্যাপ্টারের সংখ্যা প্রায় ৪০০টিরও বেশি এবং তার রয়েছে ৪০ টির উপরে লিখিত ও সম্পাদিত বই। ডঃ পাল প্রায় ৫০টি দেশের ৩৫০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্স বক্তা, সংগঠক এবং টেকনিক্যাল কমিটি মেম্বার হিসেবে যুক্ত থেকেছেন। তিনি প্রায় ১০০টির উপরে জার্নাল এর বোর্ড মেম্বার পাশাপাশি তিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং বুক সিরিজের চিফ এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তাকে শুভকামনা জানিয়েছেন তার পরিবারের সকলে, তার মেয়ে, তার বিভাগের সহকর্মী, তার ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক এবং বিশ্ববিদালয়ের সাথে যুক্ত অন্যান্যরা।

