নিমন্ত্রণ নয়, উপহার—বিয়ের বউভাতে ৫০০ মেহগনি চারা বিলি মালদায়।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— পরিবেশ বাঁচাতে প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে হামেশাই দেখা যায় সচেতনামূলক প্রচার চালাতে বা গাছের চারা বিলি করতে। কিন্তু বিয়ে বাড়ির বউভাতেও পরিবেশ রক্ষার বার্তা!সাথে সাথে বৌভাতে আসা অতিথিদের হাতে চারাগাছ তুলে দিলেন। তারই সাক্ষী থাকলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসীহাটা গ্রামের বাসিন্দারা। বুধবার রাতে ছিল তুলসীহাটা গ্রামের সুদীপ্ত দাস ও পায়েল দাসের বউভাতের আয়োজন। আর সেখানে সবুজকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যে আয়োজন,তা ছিল চোখে পড়ার মতো। নব দম্পতি এদিন আমন্ত্রিত সকল অতিথিদের হাতে উপহার হিসেবে চারা গাছ তুলে দেন। গাছ কাটা বন্ধের পাশাপাশি গাছ লাগানো কতো টা উপকারিতার বার্তা দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের। এদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক মেহগনি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগে সবুজের অস্তিত্ব ক্রমশই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। নিজেদের স্বার্থের তাগিদে প্রতিনিয়ত নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন করে চলেছে মানব সমাজ। শুধু শহরাঞ্চলে নয়, গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়েছে। জনসচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই মানুষকে সচেতন করতে এবং বৃক্ষরোপণ করার বার্তা দিতে এই উদ্যোগ বলে জানান নব দম্পতি। বর সুদীপ্ত বলেন,ওই গাছগুলি আমাদের বিয়ের স্মৃতি হিসাবে বড় হবে। গাছ ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব ভাবা যায় না। আশা করি আমাদের এই উদ্যোগ পরিবেশে কিছুটা হলেও ভাল প্ৰভাব ফেলবে। এক আমন্ত্রিত অতিথি শিক্ষক মিজানুর হক বলেন,নেমতন্ন খেতে গিয়ে উপহার দিতে হয় শুনেছি। কিন্তু এমন অভিনব উপহার যে ফিরে পাওয়া যায়,তা জানা ছিল না। দূষণে জর্জরিত এ পৃথিবীর সংকট পরিস্থিতি থেকে কেবল গাছই বাঁচাতে পারে। আর তাই সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন করে প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। নব দম্পতির এই ভাবনায় আমি সত্যি আপ্লুত ।

